EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন জিয়াউদ্দিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঘানা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন জিয়াউদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পুষ্টিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করে সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঘানার রাজধানী আক্রায় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের (এমএনএফ) ৭ম বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

চার দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল পরিবেশের প্রেক্ষাপটে পুষ্টি’। এতে বিভিন্ন দেশের পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতের গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী প্যানেলে ড. জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন আলিকো ড্যাঙ্গোটে ফাউন্ডেশনের হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের পরিচালক ড. ফ্রান্সিস আমিনু, ঘানায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রুনে স্কিনেবাখ, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ফিলিপ বোয়াহেন এবং এনজে ব্রাওয়ার। 

ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, পুষ্টি, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে না দেখে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা দরকার। এ বিষয়ে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও টেকসই অর্থায়ন।

তিনি বলেন, কৈশোরকালীন পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, মাতৃপুষ্টি, গর্ভাবস্থায় পুষ্টি, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশন, মাতৃদুগ্ধপান ও শিশুর পরিপূরক খাবার নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাই এসব সেবাকে আলাদা না রেখে মানুষের জীবনচক্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, সরকার চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যেতে চায়। এর ভিত্তি হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, যেখানে পুষ্টি নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে থাকবে।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রায় এক লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। 

এসব স্বাস্থ্যকর্মী ও মিডওয়াইফ কিশোরী ও নারীদের পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, প্রসবোত্তর সেবা, মাতৃদুগ্ধপান এবং নবজাতক ও শিশুর পুষ্টিসেবায় কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

“পুষ্টির প্রকৃত সমন্বয় কাগজে-কলমে নয়, সেবাদানের পর্যায়ে ঘটতে হবে।”

গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, এখন শুধু নতুন প্রমাণ সংগ্রহ নয়, সমন্বিত সেবা কীভাবে বড় পরিসরে দেওয়া যায় এবং কারা সেবা থেকে পিছিয়ে পড়ছে—এসব বিষয়েও গবেষণা দরকার। পাশাপাশি টেকসই অর্থায়নের জন্য ব্যয় ও অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অপুষ্টি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। খাদ্যব্যবস্থা, শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। 

তবে আরও গবেষণার অপেক্ষায় কাজ পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমাদের কাছে কাজ শুরু করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো—প্রমাণকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারে, রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে টেকসই অর্থায়নে, অর্থায়নকে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এবং সেই ব্যবস্থাকে প্রতিটি কিশোরী, নারী, মা ও শিশুর কাছে পৌঁছানো সমন্বিত সেবায় রূপান্তর করা।”

বাংলাদেশ এই পথেই এগোতে চায় উল্লেখ করে ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, দেশের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়াসহ অন্যান্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। পুষ্টিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের ৭ম বৈশ্বিক সম্মেলন ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে পুষ্টি, খাদ্যব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও অপুষ্টি মোকাবিলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন