EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য

চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা

রাসেল হোসেন, বরিশাল

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চিকিৎসকের তীব্র সংকটে ধুঁকছে বরিশাল বিভাগ তথা দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা। প্রায় এক কোটি মানুষের এই অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য। সবচেয়ে বেশি সংকট উপজেলা পর্যায়ে। চিকিৎসক না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের জেলা শহর কিংবা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ছুটতে হচ্ছে। এতে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে শেবাচিমে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাদে বরিশাল বিভাগে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ৮৬৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬৭৫ জন। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৪৩৯ পদের বিপরীতে ২২৪ জন, ভোলায় ৩৮৩ পদের বিপরীতে ১০৩ জন, ঝালকাঠিতে ২০০ পদের বিপরীতে ৫৮ জন, পটুয়াখালীতে ৩৩৩ পদের বিপরীতে ১২০ জন, পিরোজপুরে ২৯৫ পদের বিপরীতে ৯২ জন এবং বরগুনায় ২১৭ পদের বিপরীতে মাত্র ৭৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, বরিশাল বিভাগে চিকিৎসক সংকট অত্যন্ত প্রকট। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে হাম, ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে ঠিকমতো সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বাস্থ্যসচিব ও মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার বরিশালে কিছু চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো নদীবেষ্টিত হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা রয়েছে। এ কারণে ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বেশ কয়েকটি উপজেলায় চিকিৎসকেরা কাজ করতে অনীহা দেখান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পদায়ন করা হলেও পরে নানা তদবিরের মাধ্যমে অনেকেই এসব হাসপাতাল থেকে বদলি হয়ে যান। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসক সংকট প্রকট। ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি রোগী আন্তঃবিভাগে এবং আরও ২ হাজারের বেশি রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন।


এত বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫৭১টি। এর মধ্যে ২৪০টি পদই শূন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ২৪৮টি পদের মধ্যে ১৪৬টি এবং সাধারণ চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের মধ্যে ৯৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাহামুদ হাসান বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে। এতে সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী চিকিৎসা নেন, সেই তুলনায় চিকিৎসক নেই। তারপরও বিদ্যমান জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন