EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

বস্তাপচা রাজনীতি নয়, পরিবর্তন ও সংস্কার চাই: বিরোধীদলীয় নেতা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

বস্তাপচা রাজনীতি নয়, পরিবর্তন ও সংস্কার চাই: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অতীতের বস্তাপচা রাজনীতির পরিবর্তে বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে তাঁরা অটল থাকবেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থান হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। সাত মাসের বেশি আলোচনার পর বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালে অংশীজনেরা এতে স্বাক্ষর করেন। 

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁদের আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। তাঁদের দাবি ছিল, আগে গণভোট এবং পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু বিএনপির দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে দুটি ভোটের আয়োজন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা অতীতের বস্তাপচা ঘুণেধরা রাজনীতি এ দেশে আর দেখতে চাই না। আমরা তার পরিবর্তন চাই, সংস্কার চাই, আর আমাদের সন্তানেরা এ জন্য জীবন দিয়েছে।”

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তরুণদের দাবি ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু তাঁর মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং বৈষম্য বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার এড়িয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেন তিনি। 

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সংবিধানের যেসব জায়গায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। যেসব বিষয়ে আপত্তি জানায়নি, সেগুলোও এখন এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের পুরোনো প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে চান না তাঁরা। অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, “জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদায় আমরা অটল। এই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকব, ইনশাআল্লাহ।” তাঁর অভিযোগ, বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়নি এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে তাঁরা সরে আসবেন না বলে জানান তিনি।

বিএনপির নির্বাচনী ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছে এবং এখন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাচ্ছে। এসব বিষয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অস্ত্র ও মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কর ও দুর্নীতির বোঝায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রবাস থেকে ফিরে আসা মানুষের জন্যও সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ঘটছে। সরকারের এসব ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজের দায়িত্বে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো দলীয় দাবি আদায়ের জন্য নয়; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এসব দাবি বাস্তবায়নে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের কাছে তাঁরা মাথানত করবেন না।

আন্দোলনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা তা বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করতেও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, দাবিগুলো কোনো দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারের নয়; এগুলো জনগণের অধিকারসংশ্লিষ্ট। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়া এবং তাদের শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা করাই সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আগামী ৩১ তারিখের লংমার্চ ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র না করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনো বাধা বা ষড়যন্ত্র তাঁদের কর্মসূচির গন্তব্যে পৌঁছানো থেকে আটকাতে পারবে না।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. মো. রেজাউল করিম।

আরও পড়ুন