আশংকায় এআই প্রযুক্তি খাত
মার্কিন নির্বাচনের কোপ শেয়ারবাজারে: একদিনে উধাও আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ এএম
ওয়াল স্ট্রিটের এই বড় ধাক্কা তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারকেও। ছবি: বিবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া এক গভীর শঙ্কা কাঁপিয়ে দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের গুঞ্জনে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
টেক জায়ান্টগুলোর শেয়ারে ব্যাপক ধস নেমেছে, যার প্রভাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বৈশ্বিক বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের পুঁজি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিপর্যয়ের শুরুটা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের প্রাণকেন্দ্র নাসডাক থেকে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সূচকটি এক ধাক্কায় ৫.৫ শতাংশ পড়ে যায়। এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে মুহূর্তেই প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হাওয়া হয়ে যায়। ওয়াল স্ট্রিটের এই বড় ধাক্কা তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারকেও।
বাজারের এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে মার্কিন শীর্ষ সাত প্রযুক্তি পরাশক্তি বা ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-কে। অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য হারিয়েছে।
এআই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, ধনকুবের ইলন মাস্কের জন্য দিনটি ছিল চরম বিপর্যয়ের; তার মালিকানাধীন টেসলা ১১ শতাংশ এবং স্পেসএক্স ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে। ফলে একদিনেই মাস্কের সাম্রাজ্য থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পুঁজি উধাও হয়েছে।
মার্কিন বাজারের এই নেতিবাচক ঢেউয়ের প্রভাবে পড়েছে এশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর বাজারেও। জাপানের প্রধান সূচক ‘নিক্কেই’ ৬ শতাংশ পতন নিয়ে দিন শেষ করেছে, যার বড় শিকার চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়া ও টোকিও ইলেকট্রন। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ জায়ান্ট ‘এসকে হাইনিক্স’ ১০ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে, যা পুরো দেশের ‘কসপি’ সূচককে ৬ শতাংশ নিচে নামিয়ে দিয়েছে।
তবে প্রযুক্তি কোম্পানির সংখ্যা কম থাকায় ইউরোপের বাজারে (যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ এবং জার্মানির ড্যাক্স) পতনের মাত্রা ১.৩ থেকে ১.৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
হঠাৎ এই অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয়ের পেছনে বিশ্লেষকেরা দুটি প্রধান কারণ দেখছেন। এআই খাতের অতি-বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
মার্কেট রিচার্জ প্রতিষ্ঠান ‘এজ বেল’-এর বিশ্লেষক ড্যান কোটসওয়ার্থের মতে, এআই প্রযুক্তির পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালা হলেও, সেই বিনিয়োগ থেকে আদৌ কোনো নিশ্চিত লাভ আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ থমকে যেতে পারে এবং এআই খাতের ওপর আইনি কড়াকড়ি আসতে পারে।
এতদিন যে এআই খাতকে 'সোনার হরিণ' মনে করে সবাই অন্ধের মতো ছুটছিল, এখন সেখানে নিয়ন্ত্রণের লাগাম পড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
