ইমরান খানের তিন বোনের মুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের তিন বোনের ৩০ দিনের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত মুক্তির আবেদনও জানানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আবেদনটি করেন ইমরানের বোন আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান। তিনি তার মা আলিমা খান এবং ইমরানের অন্য দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের আটকাদেশ বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনার গত ২০ সেপ্টেম্বর জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের (এমপিও) ৩ নম্বর ধারায় তিন বোনের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেন। এর মধ্যে আলিমা খানকে আগেই আটক করা হয়েছিল। পরে উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককেও আটক করা হয়।
আবেদনে শাহরাইজ খান দাবি করেন, ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় তার মা আলিমা খানকে আটক করা হয়। তখন জনশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন কোনো সমাবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না। আলিমা খান ও তার গাড়িচালক মুহাম্মদ আমিরকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহরাইজ খানের দাবি, আলিমা খান কখনো এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, যা জননিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় পুলিশের মৌখিক পরামর্শ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপের কারণে এই আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে বলা হয়েছে, তিন বোনের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশে তাদের নির্দিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়নি। শাহরাইজ খানের দাবি, পুরোনো কোনো মামলাকে ভিত্তি করে এভাবে কাউকে আটক করা আইনসম্মত নয়। একই সঙ্গে সাধারণ ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আটকাদেশ দেওয়ার যথেষ্ট কারণও দেখানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলিমা খানের বিরুদ্ধে থাকা একটি পুরোনো মামলাকেও আটকাদেশের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে শাহরাইজ খানের দাবি, ওই মামলায় আলিমা আগাম জামিন চেয়েছিলেন। পুলিশও তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার কারণে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছিল। এরপরও একই মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লাহোর হাইকোর্টে করা আবেদনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, লাহোরের ডেপুটি কমিশনার, লাহোর পুলিশের প্রধান এবং লাহোর সেন্ট্রাল জেলের কারা তত্ত্বাবধায়ককে বিবাদী করা হয়েছে। তিন বোনের আটকাদেশ বাতিলের পাশাপাশি মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনা ঘটল। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচিকে সামনে রেখে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অভিযান জোরদার হয়েছে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটকের নির্দেশ দেয় লাহোরের জেলা প্রশাসন। ওই আদেশে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়। পরে উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককেও একই আইনে আটক করা হয়।
ইমরান খানের ছেলে কাসিম খানও পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার খালা উজমা খান ও নরিন নিয়াজিক এবং চাচাতো ভাই শেরশাহ ও শাহরাইজ খানকে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
কাসিম খান আরও বলেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এখন লাহোর হাইকোর্টে তিন বোনের আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।
-6ab14d69ad965.jpg)
-6ab1f19ebb769.jpg)
