EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে দ্বৈত নীতি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ এএম

খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে দ্বৈত নীতি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলা প্রত্যাহারের শর্তে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য ভিন্ন নিয়ম করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা পাওয়ার আগে ঋণগ্রহীতাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের বিরুদ্ধে করা রিটসহ অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এ জন্য হলফনামাও জমা দিতে হবে।

তবে নীতি সহায়তা দেওয়া হবে—এমন কোনো লিখিত নিশ্চয়তা আগে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার আবেদন ও ব্যবসার সক্ষমতা যাচাই করে প্রথমে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হবে। এরপর মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি পৃথক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে গত ২৯ জুলাই ব্যাংকগুলোর জন্য সার্কুলার জারি করা হয়। আর ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারার ক্ষমতাবলে গত ১৭ আগস্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে নীতি সহায়তার জন্য বিবেচিত হওয়ার আগেই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের পরও সহায়তা পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাব্যতা ও ঋণগ্রহীতার আবেদন যাচাইয়ের পর লিখিত নীতিগত সম্মতি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর মামলা প্রত্যাহার ও হলফনামা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অনুমোদিত নীতি সহায়তার শর্ত পরিবর্তন করা যাবে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণসংক্রান্ত মামলা কমানোর লক্ষ্য থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে মামলা প্রত্যাহারের আগে সহায়তার বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা না থাকলে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতারা নীতি সহায়তা নিতে অনাগ্রহী হতে পারেন। এতে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য নির্ধারিত শর্তের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাকে আগে মামলা প্রত্যাহার করতে হলেও ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে কেন আগে নীতিগত সম্মতি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। 

ব্যাংকিং খাতে ঋণ আদায়ের দীর্ঘসূত্রতা ও মামলাজটও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থঋণ আদালতে ৭২ হাজার ৫০০টির বেশি মামলা বিচারাধীন ছিল। এসব মামলায় জড়িত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর একটি উদাহরণ জনতা ব্যাংক ও গ্রিন ট্যানারির ঋণসংক্রান্ত মামলা। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া ১৮ কোটি টাকার এ মামলা ২০২৬ সালেও নিষ্পত্তি হয়নি। এ পর্যন্ত ১০৪ বার শুনানি হয়েছে। মামলাটিতে উচ্চ আদালতের ছয় মাসের স্থগিতাদেশ প্রায় আট বছর ধরে কার্যকর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ আদায় আটকে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন মামলা চলা এবং আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ খাতে কার্যকর সমাধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. ইজাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। 

এদিকে, ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল নিয়েও আলোচনা চলছে। এ তহবিলের ঋণে সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ লাখ। তবে চার মাস পরও ঋণ বিতরণ ধীরগতিতে থাকায় শর্ত শিথিল ও সুদহার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলা কমানো এবং ঋণগ্রহীতাদের নীতি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নির্দেশনার বাস্তবায়ন, মামলা নিষ্পত্তির গতি এবং ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপের ওপর।

সূত্র: কালবেলা 

আরও পড়ুন