ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির এডিস লার্ভা জরিপ শুরু
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই জরিপ চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
জরিপে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ১০টি অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব এবং প্রজননের প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে।
ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘কোবো টুলবক্স (KoboToolbox)’ অ্যাপ। জরিপ শেষে ব্রেটু ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI) নির্ধারণ করা হবে।
ব্রেটু ইনডেক্সের ভিত্তিতে এলাকাগুলোকে তিন ভাগে চিহ্নিত করা হবে। ২০ বা তার বেশি হলে ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
জরিপে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিকভাবে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা জরুরি। জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের জায়গায় পানি জমতে না দেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ভিত্তিতে এসব এলাকায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

