যে কারণে মাদক মামলায় খালাস পাচ্ছেন আসামিরা, মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে
মো. মাহবুব আলম ও আসাদুল ইসলাম, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
প্রতীকী ছবি/ এআই দিয়ে তৈরি
ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত, সেই অনুযায়ী প্রস্তুত করা অভিযোগপত্র, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে তা আদালতে জমা দেওয়া, অভিযান পরিচালনাকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হওয়া এবং প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা—এসব কারণে মাদক মামলার আসামিরা সহজেই খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন আইনের আওতার বাইরে, আর মাদকের উৎসও থেকে যাচ্ছে অজানা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৫১ ধারা অনুযায়ী, বিচার শুরুর ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে রায় দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মামলার রায় আসতে সময় লাগছে প্রায় এক দশক।
পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং র্যাবের দায়ের করা ছয়টি মাদক মামলার রায় বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলাগুলো ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চকবাজার, উত্তরা মডেল, পল্টন মডেল, যাত্রাবাড়ী ও সূত্রাপুর থানায় দায়ের করা হয়েছিল।
যে মামলাগুলোতে খালাস
২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম শনির আখড়ার একটি বাড়ি থেকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ পটুয়াখালীর ইউসুফ ফরাজীর ছেলে মোহাম্মদ সুজনকে গ্রেপ্তার করেন। জব্দ করা মালামাল রাসায়নিক পরীক্ষায় মাদক বলে প্রমাণিত হয়।
একই বছরের ফেব্রুয়ারি থানার এসআই আরিফুর রহমান শুধু সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেন। যার মধ্যে মাদকের উৎস ও মূল হোতাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না। তারপরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি অনুমোদনে করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ খন্দকার এটিএম তোফায়েল এই মামলায় সুজনকে খালাস দেন।
রায়ে বলা হয়, অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষীদের হাজির করতে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ একজন সাক্ষীকেও হাজির করতে পারেনি। এতে দীর্ঘদিন আদালতের মূল্যবান কার্যসময় নষ্ট হয়েছে।
২০২৩ সালের ১৯ মে রাত পৌনে নয়টার দিকে চকবাজার থানার এসআই সোহাগ মাতুব্বরের নেতৃত্বে একটি দল মালিবাগের মো. সালামের ছেলে শাকিল আহমেদ জনিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। চাঁন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে তাকে ১০টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থলে লোকমান হোসেন ও মো. সাকিব নামে দুজন সাক্ষী ছিলেন।
সেদিনই থানার এসআই ওয়াসিম বিল্লাহ মামলা করেন। পরে এসআই আশিকুর রহমান শুধু জনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। মাদক নেটওয়ার্কে জড়িত অন্য কারও নাম এতে ছিল না।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জনিকে খালাস দেন।
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারে হাজির হওয়া দুই সাক্ষীর একজন সাকিব আদালতে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। জব্দ তালিকায় তার নামে থাকা স্বাক্ষরও তার নয়। এজাহারকারী, জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কেউই আদালতে সাক্ষ্য দিতে হাজির হননি।
২০১০ সালের ১৯ জুন উত্তরা মডেল থানার এসআই ওবায়দুর রহমান জিতু পাটোয়ারীর ছেলে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, এএসআই মিজানুর রহমান, কনস্টেবল নূর মোহাম্মদ এবং সাক্ষী ফিরোজ আলম, বিরাজ মিয়া ও দুলাল কৃষ্ণকে সঙ্গে নিয়ে আগের দিন উত্তরা সেক্টর-১০ থেকে হালিমের কাছ থেকে ৪২ বোতল বিয়ার জব্দ করা হয়।
একই বছরের ১৪ জুলাই থানার এসআই আরিফুর রহমান অভিযোগপত্র দেন। এতে ঘটনায় জড়িত অন্য কারও নাম বা মাদকের উৎসের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৩ সালের ৩০ জুলাই অতিরিক্ত দায়রা জজ খন্দকার এটিএম তোফায়েল হালিমকে খালাস দেন।

রায়ে বলা হয়, সাক্ষীদের হাজির করতে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হলেও কাউকে আদালতে হাজির করা যায়নি। বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ দীর্ঘ সময় কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। এতে আদালতের মূল্যবান কার্যসময় নষ্ট হয়েছে।
২০০৯ সালের ১০ জুন র্যাব-৩-এর সহকারী পরিচালক আবদুল করিমের নেতৃত্বে একটি দল সূত্রাপুরের কোম্পানীগঞ্জ লেনের ৩৬ নম্বর একটি দোকান থেকে তওহিদুল ইসলাম তুর্জোকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ২২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। অভিযানে এসআই লুৎফর রহমান, এএসআই হুমায়ুন কবির, নায়েক নজরুল ইসলাম, রাজু আলম, হাফিজুর রহমান ও ইমাম হোসেন ছিলেন। স্থানীয় দুই ব্যক্তি মোতালেব ও রিপনও উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল করিম সেদিনই সূত্রাপুর থানায় তুর্জোর বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানার এসআই রবিউল ইসলাম তদন্ত করেন। জব্দ করা মাদক রাসায়নিক পরীক্ষায় মাদক হিসেবে নিশ্চিত হয়। ২০০৯ সালের ২ জুলাই তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তবে মাদকের উৎস বা ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য এতে ছিল না।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহানারা ফেরদৌস তুর্জোকে খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, বারবার সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের হাজির করতে পারেনি। কেন তাঁদের হাজির করা যায়নি, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কোতোয়ালি সার্কেলের হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া পল্টন মডেল থানায় জহিরুল ইসলাম স্বপন ও হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ডিএনসির একটি দল চার পুলিশ সদস্যের সহায়তায় ‘বক ল্যান্ড’ নামে একটি দোকান ঘিরে ফেলে। তিন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ বোতল বিদেশি মদ ও ১২ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
পরে ডিএনসির কোতোয়ালি সার্কেলের পরিদর্শক শাহীনুল কবির আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
শুধু মাদকবাহক গ্রেপ্তার করেই অভিযান শেষ করা উচিত নয়। কে চালান পাঠিয়েছে, কে অর্থায়ন করেছে, কোথায় মজুত রাখা হয়েছিল এবং বাজারে কার মাধ্যমে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, সেই পুরো নেটওয়ার্কই তদন্ত করতে হবেনিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শহীদুল ইসলাম দুই আসামিকেই খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। এজাহারকারী বা জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী কেউই সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হননি। তদন্তকারী কর্মকর্তাও সাক্ষ্য দেননি।
পরিসংখ্যান কী বলছে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৩১টি মামলায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। জুন পর্যন্ত এসব মামলা ও অন্যান্য মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন মাত্র ১৭ হাজার ৪৩৮ জন। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫৫৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ হাজার ৮৫টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন—যা মোট মামলার ৫১.৩৮ শতাংশ। ৬৩ হাজার ৯৩ জন আসামির মধ্যে ৩৩ হাজার ৭৬ জন অর্থাৎ ৫২.৪৩ শতাংশ খালাস পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্বের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য থাকা, রাসায়নিক পরীক্ষার নির্ভুলতা এবং তদন্তকারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর যখন আসামি খালাস পেয়ে যান, তখন তদন্তের গভীরতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।’ তিনি আরও বলেন, শুধু মাদকবাহক গ্রেপ্তার করেই অভিযান শেষ করা উচিত নয়। কে চালান পাঠিয়েছে, কে অর্থায়ন করেছে, কোথায় মজুত রাখা হয়েছিল এবং বাজারে কার মাধ্যমে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, সেই পুরো নেটওয়ার্কই তদন্ত করতে হবে।’
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘মাদক মামলার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তি ও প্রকৃত সাজা নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাক্ষীর অনুপস্থিতি মাদক মামলা বিলম্বিত হওয়া এবং আসামিদের প্রায়ই খালাস পাওয়ার একটি প্রধান কারণ। বারবার সমন ও পরোয়ানা জারির পরও সাক্ষীদের প্রায়ই আদালতে হাজির করা যায় না।’
ফারুকীর মতে, মাদক জব্দের এলাকায় যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তাদের সাক্ষী করা উচিত, ভাসমান বাসিন্দাদের নয়, যাদের পরে খুঁজে পাওয়া যায় না।
সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ড. মো. শাহজাহান সাজু মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সাক্ষী শনাক্তকরণ এবং আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মাদক মামলার একটি বড় সমস্যা হলো, প্রায়ই "ভাসমান" বা অস্থায়ী ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হয়, যাদের পরে খুঁজে পাওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘মোবাইল নম্বর দেওয়া হলেও পরে তা বদলে যেতে পারে। দেওয়া ঠিকানাও ভুল হতে পারে। ফলে সমন যথাযথভাবে জারি করা যায় না।’
তিনি পুলিশ সাক্ষী, বিশেষত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাজির করার ক্ষেত্রে অসুবিধার কথাও তুলে ধরেন, কারণ তারা প্রায়ই এক কর্মস্থল থেকে আরেক কর্মস্থলে বদলি হয়ে যান।
অনেক ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে অনিচ্ছুক থাকেন। এর একটি কারণ, এ জন্য তারা কোনো ভাতা পান না।
ড. মো. শাহজাহান সাজু বলেন, ‘চার্জশিটে পুলিশ সাক্ষী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত, যাতে তাদের শনাক্ত করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমন পাওয়ার পরও যদি তারা হাজির না হন, তাহলে পুলিশের মহাপরিদর্শককে জানানো যেতে পারে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো যেতে পারে, যাতে সাক্ষীকে আদালতে হাজির করানো যায়।’
যা বলছে কর্তৃপক্ষ
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী ও তদন্তকারীদের সবসময় আদালতে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।’
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে অনিচ্ছুক থাকেন। এর একটি কারণ, এ জন্য তারা কোনো ভাতা পান না।’
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতে হাজির হলেও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে পরবর্তী তারিখ দেওয়া হয়। এতে পরে আবার আদালতে যেতে তারা নিরুৎসাহিত হন।’
তবে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতে হাজির না হলে, তা জানতে পারলে আমরা ব্যবস্থা নিই— বলেন রফিকুল ইসলাম।
অসম্পূর্ণ তদন্তের প্রসঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, জব্দ হওয়া মালামালের উৎস উদ্ঘাটন করা তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব। তবে কেউ যদি শুধু মাদকসহ ধরা পড়া ব্যক্তিকেই অভিযুক্ত করেন, তাহলে সেটি কেবল অসম্পূর্ণ তদন্ত নয়, এটি দায়িত্বের অবহেলাও।

