EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

গাজীপুরে আট নারী নিয়ন্ত্রণ করছেন মাদক কারবার

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

গাজীপুরে আট নারী নিয়ন্ত্রণ করছেন মাদক কারবার

ছবি: কালের কণ্ঠ

অ অ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চললেও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চলছে মাদক কারবার। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মহানগরের মাদক কারবারের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছেন আট নারী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মাদক কারবারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীসংলগ্ন টঙ্গীর হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদনগরসহ বিভিন্ন বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চলছে। এসব এলাকায় গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার মতো মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।

টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তির মোমেলা বেগম (৪৬) বড় পাইকারি মাদক কারবারিদের একজন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। গাঁজা দিয়ে কারবার শুরু করে পরে ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার ব্যবসায় জড়ান বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯টি মাদক মামলা রয়েছে। গত বছরের ২ নভেম্বর ৪০০ ইয়াবা ও ৪০ গ্রাম হেরোইনসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের মাধ্যমে মোমেলা বেগম টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, জমি ও যানবাহনসহ বিপুল সম্পদ গড়েছেন।

একই এলাকার ময়না খাতুন (৫৫) ও আফরিনা আক্তার (৪০)-এর বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। ময়না খাতুনের পরিবারের একাধিক সদস্যও মাদক কারবারে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। মাদকের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গাজীপুর ও মাদারীপুরে সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ।

আফরিনা আক্তার টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে থাকেন। এলাকায় ‘বড় আপা’ নামে পরিচিত এই নারীর বিরুদ্ধে আগে ফেনসিডিল ও বর্তমানে ইয়াবার কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্বামী ও ভাইও এ কাজে সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির কুলসুম (৩৫) ও কারিমা বেগম (৩৫)-এর বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। কুলসুমের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের জন্য একটি বড় দল পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সহযোগীদের মধ্যে পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। গত জুলাইয়ে তাঁর বোন নার্গিসকে আট কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কারিমা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গত ১৮ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের মাধ্যমে তিনি একাধিক ভবনসহ বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

টঙ্গীর বাইরে গাজীপুর মহানগরের লক্ষ্মীপুরা এলাকার তাহমিনা ও আশা এবং কাশিমপুরের ডালিয়া বেগমের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ডালিয়া কয়েক বছর আগেও অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। বর্তমানে তাঁর পরিবারের নামে ওই এলাকায় পাঁচটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব নারী কারবারির সঙ্গে আরও শতাধিক নারী যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়াত হোসেন বলেন, মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কারবার বন্ধে গত আট মাসে অসংখ্য অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল মাদকসহ অনেক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি রাজউকের সহায়তায় বস্তির কয়েকটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে সব বস্তিতে অভিযান চালানো হবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুন