EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

বিপিসির আমদানি: ৫৬ জাহাজে প্রায় ৩০ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের ঘাটতি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

বিপিসির আমদানি: ৫৬ জাহাজে প্রায় ৩০ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের ঘাটতি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের সময় ৫৬টি জাহাজে প্রায় ৩০ লাখ লিটার ঘাটতি পাওয়া গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব জাহাজের বিল অব লেডিং (বিএল) এবং প্রকৃত খালাসের পরিমাণের হিসাব তুলনা করে এই পার্থক্য পাওয়া যায়। ঘাটতি হওয়া তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অর্থবছরে ৫৬টি জাহাজে মোট ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯২৮ দশমিক ৮৪২ টন জ্বালানি তেল আমদানির হিসাব ছিল। কিন্তু খালাসের পর পাওয়া গেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৩৫৭ টন। অর্থাৎ আমদানির হিসাবের তুলনায় ২ হাজার ৪৪৯ দশমিক ৪৮৫ টন তেল কম পাওয়া গেছে।

জ্বালানির ধরন অনুযায়ী হিসাব করলে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯ লাখ ৬৫ হাজার লিটার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ডিজেলে। এ জ্বালানিতে ২ হাজার ২৬ দশমিক ৪৫৮ টন বা প্রায় ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩৭৯ লিটার কম পাওয়া গেছে। পেট্রল ও অকটেনে ঘাটতি ২৮১ দশমিক ৭৮৯ টন বা প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৭ লিটার। এ ছাড়া জেট এ-১ জ্বালানিতে ১৪১ দশমিক ২৩৮ টন বা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭০০ লিটার ঘাটতি পাওয়া গেছে।

জাহাজভিত্তিক হিসাবেও কয়েকটি চালানে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। এমটি টর্ম অ্যাগনেস জাহাজে ডিজেল কম পাওয়া গেছে ২৬৩ দশমিক ৪৬৩ টন। এমটি টর্ম লুইসে এই ঘাটতি ২২১ টন এবং এমটি লিয়ান সং হুতে প্রায় ২১৪ টন। অন্যদিকে পিভিটি সোলানা জাহাজে মোটর অয়েল কম পাওয়া গেছে ২০৬ টন। এই চারটি জাহাজেই মোট ঘাটতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার টন। 

তবে জাহাজ থেকে তেল খালাসের সময় পরিমাপে কিছু পার্থক্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, তাপমাত্রা ও ঘনত্বের পরিবর্তন, পরিমাপের পদ্ধতি এবং জাহাজ ও স্থাপনার যন্ত্রপাতির হিসাবের কারণে এই পার্থক্য দেখা দিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাতটি জাহাজে বিল অব লেডিংয়ে উল্লেখ করা পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল পাওয়া গেছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খালাসের সময় তেলের পরিমাণে ০.৩ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য বিপিসির নির্ধারিত সহনীয় সীমার মধ্যে পড়ে। তাই তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে অনিয়মের কোনো বিষয় নেই। তবে বেশি ঘাটতি পাওয়া চারটি জাহাজের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেল খালাসের হিসাব আরও নির্ভুল করতে চট্টগ্রামের মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে (এমআই) স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়নি।

আরও পড়ুন