EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

ফাইনালে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?

ট্রফি প্রদানের মঞ্চে থাকছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাঁর সঙ্গে সম্প্রতি তীব্র বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক তিক্ততা তৈরি হয়েছে স্পেনের

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

ফাইনালে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ছবি: রয়টার্স

অ অ

আগামী ২০ জুলাই রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে স্পেন ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন, আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

এই ফাইনাল ঘিরে ফুটবলীয় উত্তেজনার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক কৌতূহল— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে ট্রফি তুলে দেবেন বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।

ট্রফি প্রদানে থাকছেন ট্রাম্প নিজে

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো জানান, ফাইনাল শেষে তিনি ও ট্রাম্প একসঙ্গে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে একাই ট্রফি দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ট্রাম্পকে সরাসরি ট্রফি প্রদানে যুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত ফিফার দীর্ঘদিনের প্রথা ভাঙছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন।

গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই মাঠে চেলসির ট্রফি উদযাপনে মঞ্চে থেকে যান ট্রাম্প, যা নিয়ে তখনো সমালোচনা হয়েছিল। এবার বিশ্বকাপের মূল ফাইনালে তাঁর ভূমিকা আরও বড় হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্পেনের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

মাত্র কয়েক দিন আগে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে স্পেনকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা মানতে অস্বীকৃতি জানানো একমাত্র সদস্যরাষ্ট্র স্পেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প স্পেনকে ‘টেরিবল পার্টনার’ আখ্যা দিয়ে দেশটির সঙ্গে সব বাণিজ্য ও সফর বন্ধের নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে।

তিক্ততার আরেকটি বড় কারণ ইরান ইস্যু। ইরানবিরোধী মার্কিন সামরিক অভিযানে স্পেনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল স্পেন সরকার। তবে মাদ্রিদের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি না করে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ।

প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের সঙ্গেও সানচেজের সম্পর্ক উত্তপ্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার প্রস্তাব দিলে সানচেজকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মাস্ক।

ফাইনালে যা হতে পারে

এই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে— স্পেন যদি রবিবারের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে অধিনায়ক আলভারো মোরাতা বা তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের হাতে ট্রাম্পকে হাসিমুখে ট্রফি তুলে দিতে হবে বিশ্বের কোটি দর্শকের সামনে। মাত্র দিন কয়েক আগে যে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, সেই দেশের বিজয়েই তাঁকে অংশ নিতে হবে সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের সবচেয়ে বড় মুহূর্তে। এই কূটনৈতিক অস্বস্তি তিনি কীভাবে সামলান, তা নিয়েই মূল কৌতূহল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প, যা রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক সহজ পরিস্থিত— আর্জেন্টিনার বর্তমান সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অপেক্ষাকৃত উষ্ণ।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো দর্শক, যাঁদের একটি বড় অংশ লাতিন আমেরিকান। ট্রাম্পের অভিবাসননীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তাঁর নাম ঘোষণার সময় গ্যালারিতে দুয়োধ্বনি ওঠার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতিহাসে প্রথম

১৯৯৪ সালে আমেরিকা প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, কিন্তু ফাইনালে ট্রফি দিয়েছিলেন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর। ৩২ বছর পর, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট নয়, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ফাইনালিস্টদের ট্রফি তুলে দিচ্ছেন— যা মাঠের ফুটবলের বাইরেও এই আসরকে করে তুলছে ঐতিহাসিক।

আরও পড়ুন