EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল

৬৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম শতগোলের মাইলফলক — জাদুকরি বল, তারকাদের ফর্ম নাকি গরম আবহাওয়া?

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম গোলবহুল আসর হওয়ার পথে। মাত্র ৩৩টি ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে এই বিশ্বকাপ ১৯৫৮ সালের পর দ্রুততম শতগোলের রেকর্ড গড়েছে। শনিবার সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে নেদারল্যান্ডসের তৃতীয় গোলটি করেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো— যা হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক শততম গোল।

বিবিসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে মাত্র ২০ ম্যাচে ১০০ গোল হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত শতগোলের মাইলফলক আর আসেনি। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৩৬ ম্যাচ লেগেছিল, ১৯৮২ সালেও একই সংখ্যা। এবারের আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৩.০৯ গোল হচ্ছে, যা চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের (২.৬৯) চেয়ে অনেক বেশি।

এত গোলের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন অ্যাডিডাসের ‘ট্রিওন্ডা’ বলকে। বলটির গতিপথ অনিশ্চিত হওয়ায় একাধিক গোলরক্ষক বিভ্রান্ত হয়েছেন। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ৩০ গজ দূর থেকে সেনেগালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম গোল করেন— যা বলের অস্বাভাবিক আচরণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, গোলরক্ষকরা বল নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ২০১০ সালের 'জাবুলানি' বলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসন বলেন, এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে এই বল প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করেনি।

লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন। আর্লিং হালান্ড— ২০২৫-২৬ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২৭ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা এই নরওয়েজিয়ান — ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস বলেছেন, ফরোয়ার্ডরা এখন অসাধারণ আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যেকেই বিশ্বাস করছেন যে তারা গোল করবেন।

উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মের তাপমাত্রাও গোলবন্যার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্লান্তি বাড়লে রক্ষণভাগ দুর্বল হয়, ফলে গোলের সুযোগ বেড়ে যায়। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতিকে কোচরা কৌশলগত নির্দেশনায় ব্যবহার করছেন— যা ম্যাচের শেষ দিকে গোলসংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করছে। ৭৬তম মিনিটের পর এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে ৩০টি গোল হয়েছে, যা ২০১৪ সালের পর সর্বোচ্চ।

৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাটে অভিষেককারী দেশগুলোর বিপক্ষে বড় জয়ও গোলসংখ্যা বাড়িয়েছে। জার্মানি কুরাকাওকে ৭-১, কানাডা কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ ৩০০ গোল ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন