সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, দূতাবাসের ভূমিকা স্পষ্ট করার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবাসীরা যেন আইনি প্রক্রিয়ায় দূতাবাসের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “সম্প্রতি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে বাংলাদেশি দুইজন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বাংলাদেশের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের প্রবাসজীবনের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে।
প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার জন্যই বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেট রয়েছে।’
জানার বিষয় হলো, উক্ত দুই ব্যক্তির বিচারিক প্রক্রিয়ায় আমাদের দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের সম্পৃক্ততা ছিল কি না। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য থেকে সঙ্গত কারণেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে, যখন তাঁরা বলেছেন, দণ্ড কার্যকর হওয়ার পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি।
নিঃসন্দেহে প্রতিটি দেশ তার বিদ্যমান আইনের আলোকেই আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। তবে যেহেতু এ দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিষয়টি মৃত্যুদণ্ডের, কাজেই এ ব্যাপারে দূতাবাস তাঁর দায়িত্ব পালন করেছে কি না, সরকার যেন জনগণের কাছে তা স্পষ্ট করে।
যে অপরাধে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে, এ ধরনের কার্যকারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিমাণও যদি থেকে থাকে, তাহলে সে ব্যাপারে আমাদের সরকার বা দূতাবাসের কী উদ্যোগ রয়েছে, সেটাও জানার বিষয়। সরকার এবং বাংলাদেশ দূতাবাস এ ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য।
ভবিষ্যতে কোনো প্রবাসী যাতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দূতাবাসের কাছ থেকে তাঁর প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের মর্যাদা রক্ষায় ও সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা মেনের চলার ক্ষেত্রে প্রবাসীদেরকে সচেতন করা হবে সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
যে দুইজনের ওপর দণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার চেয়ে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা সকলের জন্যই উত্তম। যা-ই ভালো, তাই বিকশিত হোক।”
