সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: গোলাম পরওয়ার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগকে ‘দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এ সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, ভাইভার নম্বরের ওজন বাড়ানো হলে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের সদস্যদের ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধার মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয়করণ করছে। তাঁর দাবি, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। তাই সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রার্থীদের জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে প্রতিযোগিতা করেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন। তাই তাঁদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন এমন ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে মৌখিক পরীক্ষার অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় হবে তাঁদের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতা; কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়। তরুণ সমাজের মেধা, শ্রম ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
