কুরআনের শিক্ষা মেনে চললেই দুনিয়া-আখিরাতে মুক্তি: বিরোধীদলীয় নেতা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষদের নবী-রাসুল হিসেবে বাছাই করেছেন। তাঁদের ওপর কিতাব নাজিল করেছেন। সেই কিতাব অনুযায়ী তাঁরা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন।
শনিবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দিনব্যাপী তা’লীমুল কুরআন বিভাগের জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারী।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। তাই সবাইকে কুরআন সহীহভাবে পড়া শিখতে হবে। কুরআন মেনে চললে মানুষ দুনিয়ায় সম্মানের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করেছে। আর কুরআন থেকে দূরে সরে গেলে মানুষের ওপর নানা বালা-মুসিবত এসেছে।
তিনি বলেন, কুরআন সহীহভাবে এবং অর্থসহ পড়তে শেখা উচিত। যারা তা’লীমুল কুরআনের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা ভাগ্যবান। তাঁরা মানুষকে কুরআন পড়া শেখাচ্ছেন এবং তা মেনে চলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আল্লাহ তাঁদের উপযুক্ত পুরস্কার দেবেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাস্তব জীবনে অর্থসহ সহীহভাবে কুরআন পড়া শেখা প্রত্যেকের জন্যই ফরজ। কুরআন পড়তে ও শিখতে হবে, বুঝতে হবে এবং মেনে চলতে হবে। তাহলেই জীবন সার্থক হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি পাওয়া যাবে। এর বাইরে মুক্তির আর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, কুরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান ছাড়া কুরআনের বিধান মেনে চলা যায় না। অন্যদেরও আল্লাহর দিকে আহ্বান করা যায় না। মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে হলে জীবনের সব ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান মেনে চলতে হবে। শুধু মুখের কথায় দাওয়াত দিলে কোনো কাজ হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করার মাধ্যমেই তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আল্লাহ যেন সবার প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে উপযুক্ত প্রতিদান দেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং তা’লীমুল কুরআন বিভাগের প্রধান উস্তায মাওলানা আব্দুর রহিম।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের কুরআন শিখতে হবে ও শেখাতে হবে’—এই স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তা’লীমুল কুরআনের কাজ আরও বিস্তৃত করতে হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত হৃদয়গ্রাহী করে পৌঁছানোর শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি আল কুরআন। তা’লীমুল কুরআনের মাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশা ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাছে কুরআনের আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন তা’লীমুল কুরআন বিভাগীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, মাওলানা আবদুল মান্নান, অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ড. মাওলানা মোজাম্মেল হক, সাবেক কেন্দ্রীয় প্রধান উস্তায মাওলানা একেএম শাহজাহান, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মাওলানা মাহফুজুর রহমান ও মাওলানা খায়রুল বাসার।
