কেন মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে চীনের কিশোর-কিশোরীরা?
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চীনের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পড়াশোনার তীব্র প্রতিযোগিতা, পরিবারের প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণে অনেক কিশোর-কিশোরী উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও নানা মানসিক সমস্যায় ভুগছে।
চীনে ভালো ফলাফল ও ভবিষ্যতে সফল হওয়ার চাপ শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস, পরীক্ষা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয় তাদের। ফলে খেলাধুলা, বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাজীবনের এই প্রতিযোগিতা অনেক কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ব্যর্থতার ভয় তৈরি করছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে না পারলে পরিবার ও সমাজের কাছে ছোট হওয়ার আশঙ্কাও তাদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।
পরিবারের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অভিভাবক সন্তানের ভালো ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। এতে সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে, মানসিক সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ বা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহারও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। অনলাইনে অন্যদের সাফল্য, জীবনযাপন ও অর্জনের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা থেকে হতাশা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এসব চাপ একসঙ্গে কাজ করে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জরিপের তথ্যেও চীনের কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী মানসিক চাপ ও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে বয়স, অঞ্চল ও জরিপের পদ্ধতিভেদে এসব পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন সরকার কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমানো এবং পরিবারে সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। পড়াশোনার ফলাফলের পাশাপাশি তাদের অনুভূতি, বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
