EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এনভিডিয়া’র সিইও’র সঙ্গে চীনা গুপ্তচর নারীর প্রেমের অভিযোগে মার্কিন তদন্ত

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

এনভিডিয়া’র সিইও’র সঙ্গে চীনা গুপ্তচর নারীর প্রেমের অভিযোগে মার্কিন তদন্ত

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া এর প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে অভিযুক্ত এক চীনা নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন  সরকার।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর সঙ্গে কথিত চীনা গুপ্তচরের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কংগ্রেস।

চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা এ অভিযোগে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক ডাটা সেন্টার কোম্পানি ‘মেগাস্পিড’ এর নির্বাহী অ্যালিস হুয়াংয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।

মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করেন, অ্যালিস হুয়াং চীনের মূল গোয়েন্দা সংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অফ স্টেট সিকিউরিটি’ (এমএসএস)-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

এক্সিওস এর প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বেইজিং সফরের ঠিক আগে মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি ছোট দলের মধ্যে এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২০২৩ সালে একটি চীনা গেমিং ফার্ম থেকে আলাদা হওয়া এই কোম্পানিটি ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য চিপ কেনে এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের কাছে কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়া দেয়।

এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো মূলত নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের পর সামনে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে মার্কিন কর্মকর্তারা অ্যালিস হুয়াং (যিনি হুয়াং লে নামেও পরিচিত)-কে চীনের একজন সন্দেহভাজন গোয়েন্দা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজরদারির মাধ্যমে জেনসেন হুয়াংয়ের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বেইজিংয়ের কাছে তথ্য পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে থাকা কেউ চীনের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এমন কিছু কোম্পানি নিয়েও তদন্ত করছেন যারা চীনের কাছে উন্নত মার্কিন চিপ পাচারে সহায়তা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন মূলত বেইজিংয়ের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে চাইছে। যা চীনের এআই সক্ষমতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণকে শক্তিশালী করতে পারে।

মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে চীনের কাছে এনভিডিয়ার উন্নত চিপ পাচার করা হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে মেগাস্পিডকে নিয়ে ক্রমবর্ধমান কঠোর তদন্তের মাঝেই এই অভিযোগগুলো সামনে এলো।

এই অভিযোগগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে হুয়াংয়ের সম্পৃক্ততার ওপরও আলো ফেলেছে। এনভিডিয়া প্রধান বারবার ট্রাম্পের কাছে চীনে চিপ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য তদবির করেছেন এবং যুক্তি দেখিয়েছেন যে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে চীনা বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া উচিত।

মেগাস্পিড আগে জানিয়েছিল যে তাদের বর্তমান নেতৃত্ব এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং সত্য উদঘাটনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনের দূতাবাস অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে

আরও পড়ুন