পাকিস্তানে জরুরি অবস্থার নামে ভিন্নমত দমনের শঙ্কা অ্যামনেস্টির
এ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার আওতায় নেওয়া সব পদক্ষেপের স্বাধীন তদারকি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি, গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপের আড়ালে বিরোধী মত দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থার আওতায় নেওয়া সব পদক্ষেপের স্বাধীন তদারকি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক বাবু রাম পান্ত বলেন, প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নির্বিচারে আটক এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর জরুরি পদক্ষেপগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে এর অজুহাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভিন্নমত দমন কিংবা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ নেই।
বাবু রাম পান্ত আরও বলেন, সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা থেকে পাকিস্তান সরকারের বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সংকটময় এই সময়ে জরুরি অবস্থার আওতায় নেওয়া সব পদক্ষেপের স্বাধীন তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত না হয় এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির অনুমোদন দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। গত ১১ অক্টোবর ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশে সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, প্রদেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রদেশটির বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও সিনেট। পাশাপাশি ফেডারেল সরকার সমাবেশ, সংগঠন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতাও পাবে।
প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির পর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা ফেডারেল সংসদের হাতে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও অ্যাডভোকেট জেনারেল তাঁদের পদ হারাবেন। এ ছাড়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রদেশটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে ফেডারেল সরকার।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২০১৩ সাল থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর দলটি প্রাদেশিক পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।
