চীনের প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৫ শতাংশ হতে পারে, পূর্বাভাস আইএমএফের
২০২৭ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর আগে সংস্থাটি ওই বছরের জন্য ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে । সংস্থাটির মতে, রপ্তানি বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে দুর্বলতা এবং আবাসন খাতের সংকট অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।
আইএমএফের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর আগে সংস্থাটি ওই বছরের জন্য ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইএমএফের সর্বশেষ ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের অর্থনীতিতে রপ্তানি ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ কম থাকায় প্রবৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস চীনের নির্ধারিত ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাসন খাতের সংকটে ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে এবং বিনিয়োগে ধীরগতি এসেছে। শক্তিশালী রপ্তানি এই দুর্বলতার কিছুটা প্রভাব সামাল দিলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যাগুলো প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করবে। তবে সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রবৃদ্ধির গতি আরও কমে যাওয়া ঠেকাতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালে তেলের গড় দাম আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এতে চীনের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম। ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকায় অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে রপ্তানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৪০ হাজার ১৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৫৫১ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।
তবে রপ্তানি বাড়লেও এর সুফল কর্মসংস্থান ও পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে খুব একটা কাজে আসছে না বলে জানিয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি। ব্যাংকটির মতে, চীনের রপ্তানি বাড়াতে এখন আগের তুলনায় বেশি মূলধন বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে সম্প্রতি সুদের হার কমানো, বাড়ি কেনার ঋণে ভর্তুকি এবং বিনিয়োগ বাড়াতে স্থানীয় সরকারগুলোকে ৫৫ হাজার কোটি ইউয়ান ঋণ নেওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে চীন সরকার। মরগান স্ট্যানলির ধারণা, এসব উদ্যোগের ফলে বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে স্থানীয় সরকারগুলোর ঋণের চাপ, আবাসন খাতের সংকট ও ভোক্তাদের আস্থার অভাবে ২০২৭ সালেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে।
জেপি মরগানের বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন, মানুষের ব্যয় কম থাকায় অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগ ও অতিরিক্ত প্রণোদনার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সামনে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন এবং আগামী মার্চে বার্ষিক দুই অধিবেশন থাকায় নতুন প্রকল্প অনুমোদনে দেরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
