EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

হুতিদের মোকাবিলায় কোন পথে হাঁটবে সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৬ এএম

হুতিদের মোকাবিলায় কোন পথে হাঁটবে সৌদি আরব

ছবি: রয়টার্স

অ অ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এই ঘটনার পর হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার তীব্র রাজনৈতিক চাপে পড়েছে রিয়াদ।

শনিবারের এই হামলার পর সৌদি আরব কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। তবে সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চাওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতায় বিদ্রোহীদের দমন করা—প্রতিটি পথেই রিয়াদের জন্য রয়েছে বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। তবে মাঠপর্যায়ে বিদ্রোহীরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে উল্টো সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের অনুসৃত কৌশল থেকে শিক্ষা নিয়ে হুতিরা এখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে নিশানা করছে। তাদের লক্ষ্য কেবল রিয়াদকে সামরিক চাপে ফেলা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেওয়া। হুতিদের এক দশকব্যাপী অভিযানের কারণে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই আক্রমণকে অনেকেই এখন ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে দেখছেন।

গত ১১ বছর ধরে বিমান হামলা ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে হুতিদের ঠেকাতে চেয়েছে সৌদি আরব। কিন্তু বিদ্রোহীদের শক্তি না কমে উল্টো তারা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ঘনবসতিপূর্ণ তাইজ অঞ্চলের দিকে নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে।

সৌদি রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষক আলী শিহাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, এই হুমকির একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তবে সৌদি আরব সরাসরি বড় আকারে স্থলসেনা মোতায়েন করলে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গড়ে তোলা স্থিতিশীল, আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইরানের সরাসরি সমর্থনে দুই দশকে হুতিরা একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে, যাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন তেল আবিবের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলির অভিযোগ, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিশেষজ্ঞরা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা ও গতি বাড়াতে কাজ করছে।

এদিকে হুতিদের অস্ত্র উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনের একটি গোষ্ঠী রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ স্থিতিশীল রাখার নির্দেশনামূলক সফটওয়্যার তৈরিতে তাদের ‘ক্লড এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এলাকাটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের দিকেই সন্দেহের আঙুল উঠছে।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। এই ঘটনা হুতিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চাপের মুখে ফেলেছে।

যদিও গত বছর হুতিদের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির পর বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি মার্কিন জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে হুতিদের ওপর হামলার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প তাতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হননি। তবে মার্কিন নাগরিক নিহতের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, সৌদিরা ভালো যোদ্ধা। তবে হামলাটি ছিল ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে যোগ দেবে কি না, জানতে চাইলে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, আমরা যোগ দিতে পারি।

বর্তমানে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সৌদি আরবকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং রিয়াদ সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকারেরও সহযোগিতা চাইছে। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে নতুন যৌথ কমান্ডের অধীনে গোয়েন্দা সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক মিত্রদের এই সহায়তার ওপর ভরসা রাখা নাকি নিজেই দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে নামা—সেটিই এখন রিয়াদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন