EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে জিবুতির শরণার্থী শিবিরে হাজারো ইয়েমেনি

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে জিবুতির শরণার্থী শিবিরে হাজারো ইয়েমেনি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজারো মানুষ। তাদের অনেকেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতির শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইয়েমেনের ধুবাব শহরের ৫০ বছর বয়সী ইব্রাহিম ইসাও তাদের একজন। যুদ্ধবিমান ও বোমা হামলার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি নিজের মাছ ধরার নৌকায় পরিবার ও কয়েকটি ছাগল নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেন। পরে জিবুতির ওবোক শহরের মারকাজি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে জিবুতিতে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে খোলা গুদাম ও তাঁবুতে বসবাস করছেন নতুন করে আসা হাজারো ইয়েমেনি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জিবুতি সরকার যৌথভাবে শিবিরটি পরিচালনা করছে।

লোহিত সাগর এলাকায় সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে এই শিবিরে তিন হাজারের বেশি নতুন শরণার্থী এসেছে। অন্যদিকে, পুরো ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও লড়াই বেড়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘাতের মধ্যে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে।

তবে এসব রাজনৈতিক বা সামরিক হিসাব নিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। তাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদে বেঁচে থাকা।

১০০ বছর বয়সী সাবেক জেলে কাসিম আব্রাহাম আবসি বলেন, হামলা কোথা থেকে হচ্ছে, তা তারা জানেন না। পাহাড় ও সড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় বোমা পড়ছিল। সন্তানদের বাঁচাতেই তাদের পালাতে হয়েছে।

যুদ্ধ থেকে পালিয়ে জিবুতিতে আসা বেশির ভাগ পরিবারই প্রায় খালি হাতে শিবিরে পৌঁছেছে। কেউ কেউ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে আনতে পারলেও অধিকাংশের সম্বল বলতে পরনের কাপড়টুকুই।

জিবুতি সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প লেমনিয়ার ও চীনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। তবে ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়াবে না বলে জানিয়েছে জিবুতি। দেশটি মানবিক কারণে শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে।

তবে অনেকের জন্য এই আশ্রয় সাময়িক থাকছে না। এডেনের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ আব্দুললারিম ২০১৫ সালে যুদ্ধ শুরুর পর জিবুতিতে আসেন। প্রায় এক দশক ধরে তিনি শরণার্থী শিবিরে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহনে বাধার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলেও এই অঞ্চলের মানবিক সংকট অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

মারকাজি শিবিরে থাকা মানুষগুলোও এখনই ইয়েমেনে ফিরতে চাইছেন না। কাসিম আবসির স্ত্রী আয়েশা আব্দুলকাদির বলেন, দেশে শান্তি ফিরলে তারা ফিরে যাবেন। তাদের প্রয়োজন শান্তি, সন্তানদের নিরাপত্তা, খাবার, পানি ও শিক্ষার সুযোগ।

যতদিন ইয়েমেনে বোমার শব্দ থামছে না, ততদিন জিবুতির বালুময় প্রান্তরের তাঁবু ও ত্রিপলই এসব মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকছে।

আরও পড়ুন