EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক রায়

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক রায়

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সঠিক আকারে তুলে ধরতে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ১৬ শতকের ঐতিহ্যবাহী ‘মারকেটর প্রজেকশন’ সরিয়ে নতুন মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

টোগোর আনা এ প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সদস্যরা। ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ ১৬৪টি দেশের ভোটে পাস হয়েছে। একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘের এ ভোট বাধ্যতামূলক নয়। তবে এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় ব্যবহৃত মানচিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

বিবিসি জানিয়েছে, ১৬ শতক থেকে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসা মারকেটর মানচিত্রটি দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছে। কারণ এতে আফ্রিকাকে প্রায় গ্রিনল্যান্ডের সমান আকারের দেখানো হয়। অথচ আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। সমালোচকদের ভাষ্য, এ ধরনের মানচিত্রের কারণে বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে ছোট করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়।

মারকেটর মানচিত্রটি ১৫৬৯ সালে তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর। ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের বিশ্বজুড়ে চলাচলে পথনির্দেশ দেওয়াই ছিল এ মানচিত্র তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য।

মানচিত্রটির সীমাবদ্ধতার মূল কারণ হলো, ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর পৃষ্ঠকে দ্বিমাত্রিক মানচিত্রে পুরোপুরি সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। ফলে বিশ্বের একটি মানচিত্র তৈরি করতে গেলে কোনো না কোনো দিক থেকে কিছুটা ছাড় দিতে হয়।

মারকেটর মানচিত্রে পৃথিবীর বক্রতা দেখাতে গিয়ে বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোকে প্রকৃত আকারের চেয়ে ছোট এবং মেরুর কাছাকাছি দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে বড় দেখানো হয়।

এ সমস্যা সংশোধনের উদ্যোগ হিসেবে ২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ সমান-আয়তনের একটি মানচিত্র তৈরি করেন। তারা এর নাম দেন ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’।


বিবিসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতেই আফ্রিকান ইউনিয়নের ৫৪টি সদস্যরাষ্ট্র নতুন মানচিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।

এর আগে জাতিসংঘের এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মানচিত্র কখনোই নিরপেক্ষ হয় না; এটি মানুষের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে দেয় এবং বিশ্বে কোনো জাতির অবস্থান কীভাবে দেখা হবে, তা নির্ধারণ করে।

কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিওকো মুয়েন্দো বলেন, মারকেটর মানচিত্রের কারণে এতদিন আফ্রিকা মহাদেশের বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে পরোক্ষভাবে ছোট করে দেখা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানচিত্র কেবল পর্যটকদের পথ দেখানোর মাধ্যম নয়; এটি কোনো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে মানুষের ধারণা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।

প্রস্তাবের সমর্থক ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট বলেন, তার মন্ত্রণালয় আর পুরোনো মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করবে না।

অন্যদিকে, প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, এ প্রস্তাব সাধারণ পরিষদের মূল উদ্দেশ্যকেই উপহাস করেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি বা সুসম্পর্কের মতো প্রকৃত সমস্যাগুলোতে নজর না দিয়ে এই সংস্থা ১৬ শতকের মানচিত্র প্রকল্প এবং ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ ও ‘বোধগত ন্যায়বিচার’ প্রচারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক করছে।

গত মার্চ মাসে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে আন্তঃআটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে ঘোষণা করা হলে তখনও যুক্তরাষ্ট্র এর সমালোচনা করেছিল।

আরও পড়ুন