নেগেটিভ রিপোর্টেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি, কখন কোন পরীক্ষা করবেন
জ্বর শুরুর পর ভুল সময়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু থাকলেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে
স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ডেঙ্গু টেস্ট করানোর জন্য হাসপাতালগুলো ভিড় করছেন অনেকে। ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুর লক্ষণ থাকার পরও পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, জ্বরের কোন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, ফল মূলত তার ওপর নির্ভর করে। ভুল সময়ে পরীক্ষা করলে ভাইরাস শনাক্ত না-ও হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা করানো জরুরি।
কখন কোন পরীক্ষা
জ্বর শুরুর প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা উচিত। এরপর রক্তে অ্যান্টিজেনের পরিমাণ কমে যায়, ফলে ভাইরাস থাকলেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে হয় পাঁচ দিন পার হওয়ার পর, কারণ এর আগে শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না। ডেন-২ সেরোটাইপের সংক্রমণে এনএস১ পরীক্ষায় ‘ফলস নেগেটিভ’ আসার আশঙ্কাও থাকে। তখন আরটি-পিসিআর করা যায়, যা প্রথম পাঁচ থেকে সাত দিনে সবচেয়ে কার্যকর। সাত দিন পর এটি নেগেটিভ এলেও ডেঙ্গু বাদ দেওয়া যায় না; সে ক্ষেত্রে আইজিএম এলাইজা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
নেগেটিভ হলে করণীয়
ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও উপসর্গ থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। উচ্চ বা মৃদু জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা বমি বমি ভাব থাকলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে সিবিসি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রক্তের প্লেটলেট ও শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্লেটলেট দ্রুত কমছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ খাওয়া যাবে না। এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর শুরুর তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রোগী সংকটপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারেন। এ সময় জ্বর কমে গেলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত; অবিরাম বমি বা রক্তবমি; কালো রঙের পায়খানা; তীব্র পেটব্যথা; ত্বকে তীব্র ফুসকুড়ি বা দাগ; রক্তচাপ কমে মাথা ঘোরা; শরীর, হাত বা পা হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা ও ভেজা হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া; এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
(বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন চেন্নাইয়ের শ্রী বালাজি মেডিক্যাল কলেজের ভিজিটিং প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ও কলকাতার রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কৌশিক ঘোষ)