EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

ছাত্রদলের প্রতি সহানুভূতিশীল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেলায় উদাসীন শাবিপ্রবি প্রশাসন

৯ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার উপেক্ষা করে ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে সাড়া দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

ছাত্রদলের প্রতি সহানুভূতিশীল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেলায় উদাসীন শাবিপ্রবি প্রশাসন

ছবি: ডেইলি সান

অ অ


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই উদাসীন ভূমিকা পালন করছে।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শাহপরান হল থেকে শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ৭ মে ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অথচ শাকসু নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ ও একাধিক স্মারকলিপি দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

আড়াই যুগ পর অনুষ্ঠিতব্য শাকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল ২০ জানুয়ারি ২০২৬। কিন্তু একদিন আগে ১৯ জানুয়ারি বিএনপিপন্থী আট কমিশনার পদত্যাগ করেন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভর হাইকোর্টে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়। সেই চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনের কোনো নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

শাকসু নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, ‘২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শিক্ষার্থীদের হল থেকে উচ্ছেদের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার জরুরি। ছাত্রদলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন প্রশংসনীয়। তবে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত শাকসু নির্বাচন স্থগিত থাকলেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই— এটি স্পষ্টতই দ্বিমুখী আচরণ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী কষ্টার্জিত অর্থ ও ঋণ নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক যে ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাবিব তো রিটকারীদের একজন। আদনান মোহনও রিটকারীদের সাথে উপস্থিতই ছিল। মমিনুর রশিদকেও এখন বিএনপি-ছাত্রদল নেতারাই দেখভাল করছে। এর আগেও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছে, শাকসু স্থগিতের জন্য। রিটকারী আইনজীবীও ছিল বিএনপির।

শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদাসীনতার প্রতিফলন পড়েছে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও— ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম ধাপে ভর্তি নিয়ে ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে ছাত্রদলের দাবির প্রেক্ষিতে কেন তদন্ত কমিটি গঠন করা হল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তাঁদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সাবেক উপাচার্য দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন