EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

গ্যাস সংকট কাটাতে জ্বালানিমন্ত্রীর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ এএম

গ্যাস সংকট কাটাতে জ্বালানিমন্ত্রীর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

গ্যাস সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও তদারকিতে নেওয়া এসব উদ্যোগে ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে এবং লোডশেডিংও কমেছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় সারা দেশে লোডশেডিং ছিল ৭২ মেগাওয়াট। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৫২ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৪ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় লোডশেডিং দাঁড়ায় ১৭৪ মেগাওয়াটে। এর আগের দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৫৬৮ মেগাওয়াট। ১০ দিন আগে দিনের বিভিন্ন সময়ে তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬১৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ২০০ এমএমসিএফডিতে নেমে গিয়েছিল।

স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ

তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

জ্বালানিমন্ত্রী গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিগগিরই জ্বালানি সংকট কেটে যাবে। আগামীতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস খুঁজতে কিছুটা সময় লেগেছে। আবার জ্বালানি কেনা হলেও ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে তা দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এখন সঠিকভাবে জ্বালানি আসছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জনগণ আস্থা রেখে সরকারকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ ও দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। এখন জ্বালানি আমদানি করা সম্ভব হয়েছে এবং সরবরাহের শিডিউলও ঠিক করা হয়েছে। আগামীতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঠিকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজে বের করেছে। বেশি দাম দিয়ে গ্যাস আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছেন বলেই দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাই টিম হিসেবে কাজ করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

গ্যাসের স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোবাংলার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপের কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন গ্যাসের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সাইসমিক জরিপের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় কাঠামো শনাক্ত করে দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন গ্যাসের উৎস খোঁজার পাশাপাশি পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে এনে শিল্পে সরবরাহ, মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বেশি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকার বিপিডিবিকে ৬ হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিয়েছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বর্তমানে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে আর্থিক চাপও রয়েছে। গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ডিজেলে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুন