EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও জ্বালানি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও জ্বালানি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি নিয়েও আলোচনা হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা ও টোকিও থেকে একযোগে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সফরসঙ্গী হবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্রতিনিধিদলের যাতায়াতের কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অন্যতম জাপান। দেশটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সময়ের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে এ সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ পর্যায়ে রয়েছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সফরকালে চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। সফরে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকাইচি সানায়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাব্য কর্মসূচি রয়েছে।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।


এলএনজি টার্মিনাল ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শন

সফরকালে জাপানের জ্বালানি ও শিল্প খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক সফরসূচি অনুযায়ী, চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

সফরকে কেন্দ্র করে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার আধুনিকায়নের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক বা সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানির কারখানা স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে জাপানের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন