সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী পাকিস্তান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের দুটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে চায় দেশটি। পাশাপাশি বাণিজ্য, ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তাঁর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ সময় উপস্থিত ছিল।
বৈঠকে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি (এনএসপিপি) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির (বিসিএসএএ) সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির (সিসিএ) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহী পাকিস্তান সরকার।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রেখেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের চা, আনারস ও চিংড়ি রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ জানান হাইকমিশনার। বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।
এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পাটশিল্প, পর্যটন, শিক্ষা ও বিমান চলাচলে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। হাইকমিশনার বলেন, ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
-6acd0439d9d6e.jpg)
