অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে কর্মী পাঠাতে অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বৈধ পথে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হবে।
৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দেবে।
মন্ত্রণালয়ের আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারায় লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবদানের কথা তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ ধরে বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স দেওয়া ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
মাইকেল মিলার নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত খরচে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বৈধ অভিবাসনের ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
এ সময় ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈধ পথে অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ইইউকে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।

