EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

স্ত্রীর মৃত্যু ঢাকতে দেশে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ: অবশেষে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার প্রবাসী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ এএম

স্ত্রীর মৃত্যু ঢাকতে দেশে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ: অবশেষে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার প্রবাসী

ছবি: স্ত্রীর মৃত্যুর রহস্য ঢাকতে ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আওলাদ হোসেন, সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশে নিজের স্ত্রীর অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত ভিন্ন খাতে ঘোরাতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা (৯০ হাজার মার্কিন ডলার) ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার আওলাদ হোসেন (৫১) কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকায় থাকতেন। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ।

বাংলাদেশে নিহত ওই নারী ছিলেন আওলাদ হোসেনের স্ত্রী রেহেনা পারভিন। বাংলাদেশ পুলিশের মামলার নথি থেকে নিজের নাম বাদ দিতে এবং তদন্ত ধামাচাপা দিতে দেশে তিনি প্রায় ৮০ লাখ টাকা পাঠান। ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দেশটির ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)।

এএফপির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ওই নারী নিখোঁজ হন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেহানা পারভীন–আওলাদ দম্পতি এবং তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ের সবাই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। ২০২৪ সালের ৬ জুন রেহানা পারভীন এক মেয়ে আহাদ নুরকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম পাতিলঝাপ গ্রামে এসেছিলেন। তাঁর বাবার নাম লেহাজ উদ্দিন।

সেবছর ২৯ জুন তাঁর স্বামী আওলাদও দেশে আসেন। পরদিন নবাবগঞ্জের বক্সনগরের ছোট রাজাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে অন্তস্বত্ত্বা স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে যান তিনি। এর তিন দিন পর ৩ জুলাই রেহানা অসুস্থ হন। স্বামী আওলাদ তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। এরপর থেকে রেহানা নিখোঁজ ছিলেন।

রেহানার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আওলাদ তাঁদের জানিয়েছিলেন রেহানা অন্য লোকের সঙ্গে চলে গেছে। কখনো বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। এরপর কারো সাথে দেখা না করেই আওলাদ ফিরে যান ওই বছরের ৭ জুলাই।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকার বাংলাদেশে থাকা নিজ নাগরিকদের খোঁজখবর নিতে শুরু করলে রেহানার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পারে। তখন অস্ট্রেলিয়ার সরকার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানায়। এদিকে আওলাদ হোসাইন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বাংলাদেশের একটি হাসপাতালের দেওয়া রেহানার স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদ দেন।

কুইন্সল্যান্ড পুলিশ বিষয়টি ফেডারেল পুলিশকে জানানোর পরের দিনই বাংলাদেশ থেকে রেহানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক বলা হয়েছে।

বিদেশে কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তের এখতিয়ার এএফপির রয়েছে। তারা বাংলাদেশ পুলিশের সাথেই নিজস্ব তদন্ত চালাচ্ছিল। সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং নথি জব্দ করে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ থেকে চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে ডলার পাঠাচ্ছিলেন আওলাদ।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশে একটি ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের ওই বাসিন্দা গত দুই বছর ধরে একাধিক কিস্তিতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন।

এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই অর্থের কিছু অংশ বাংলাদেশ পুলিশকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানোর দাবি করলেও, কোনো কর্মকর্তা এই অর্থ পেয়েছেন কিংবা তদন্তে এর কোনো প্রভাব পড়েছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওই প্রবাসীকে ইতোমধ্যে ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ফৌজদারি আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আসামির সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে জানান, ঘুষের মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে উভয় দেশেই এ মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন