শ্রীমঙ্গলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুভসংঘের সচেতনতা সভা
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সভাকক্ষে এ সভা হয়। বক্তারা এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন কলামিস্ট, আরপি নিউজের সম্পাদক ও ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট’-এর বিশেষ প্রতিনিধি কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও কার্যকর মশকনিধন জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৭৭৬ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩২ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন। বর্তমানে সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দুজন চিকিৎসাধীন। জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সভায় বলা হয়।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের সংক্রমণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন, যাঁদের ৩০ জন শিশু ও ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক। সভায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলায় অন্তত ১৫ শিশুর মৃত্যুর তথ্যও তুলে ধরা হয়।
সভায় বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। পৌরসভা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এডিসের প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বাড়িয়ে শ্রীমঙ্গলকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজের আহ্বান জানানো হয়।