EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ কার্যালয়ে মুক্ত আলোচনা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ কার্যালয়ে মুক্ত আলোচনা

ঢাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনা।

অ অ

তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে তাদের ভূমিকা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনায় দেশের ভবিষ্যৎ, তরুণদের দায়িত্ব, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, দেশপ্রেম, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রধান, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের করণীয় নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ সমাজ। তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে। তবে শুধু একাডেমিক সাফল্য অর্জন করলেই একজন তরুণের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের মতো মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাও জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ তরুণদের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি গুজব, অপসংস্কৃতি, অসহিষ্ণুতা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখার বিষয়ে তরুণদের সচেতন হতে হবে। নিজেদের চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।’

জাকারিয়া জামান বলেন, ‘একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ বাড়াতে হবে। আর এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম। তরুণরা যদি নিজেদের মেধা ও শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে, তাহলে তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সক্ষম হবে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ, নেতৃত্ব, সংস্কৃতি, তরুণদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। ইমদাদুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।

আরও পড়ুন