রাঙ্গাবালীতে জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল চাষে কৃষকদের সচেতনতা সভা
জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল চাষে কৃষকদের সচেতনতামূলক সভা।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ধান ও ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় কৃষকদের কৃষি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি জলবায়ু সহিষ্ণু জাতের ফসল চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় এই সভার আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ রাঙ্গাবালী উপজেলা শাখা। সভায় স্থানীয় কৃষকরা অংশ নেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ রাঙ্গাবালী শাখার সমন্বয়ক এম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান। প্রধান আলোচক ছিলেন জলবায়ু বিষয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টারের (ভার্ক) উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোহসীন তালুকদার। এ ছাড়া নাগরিক টেলিভিশনের রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি তুহিন রাজ, শুভসংঘের সাবেক সদস্য আব্দুর রব হাওলাদারসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান আলোচক মোহসীন তালুকদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রচলিত অনেক জাতের ধান ও ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর মতে, আগের কৃষি পদ্ধতিকে আঁকড়ে না থেকে পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষিকেও মানিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন থামানো হয়তো মানুষের হাতে নেই। কিন্তু এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষিকে টিকিয়ে রাখার পথ খুঁজে বের করতে হবে। লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও খরা সহিষ্ণু জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে বীজ বপন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে প্রতিকূল পরিবেশেও উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, শুধু নতুন জাতের ফসল চাষ করলেই হবে না। কোন মৌসুমে কোন জাত চাষ করলে ঝুঁকি কম হবে, তা-ও কৃষকদের জানতে হবে। তিনি স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাত নির্বাচন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদের ওপর গুরুত্ব দেন।
কৃষকরা বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন আবহাওয়ার ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। কখনো অতিবৃষ্টি, আবার কখনো বৃষ্টি না হওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতার কারণে ধান ও রবিশস্য চাষে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সুলতান খলিফা বলেন, আগে যে সময়ে বীজতলা তৈরি করা হতো, এখন অনেক সময় সেই সময়ে বৃষ্টি থাকে না। আবার হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে জমি ডুবে যায়। এতে চারা নষ্ট হয়। তাই এমন জাত দরকার, যা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও টিকে থাকতে পারে।
আরেক কৃষক মো. নান্নু বয়াতি বলেন, লবণাক্ততা বাড়ার কারণে অনেক জমিতে আগের মতো ফলন পাওয়া যায় না। নতুন সহিষ্ণু জাত সম্পর্কে তাঁরা জানতে চান। কৃষি অফিস ও বিভিন্ন সংগঠন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও ভালো বীজের ব্যবস্থা করলে এসব জাত চাষে আগ্রহী বলে তিনি জানান।
সভায় বক্তারা প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির পাশাপাশি জলবায়ু সহিষ্ণু ধান ও রবিশস্যের জাত নির্বাচন, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, জৈব সার ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে আগাম কৃষি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় স্থানীয় কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
