নীলফামারীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে সদর উপজেলার উত্তর হাড়োয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরেকটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু শুধু একটি মৌসুমি রোগ নয়; অসচেতনতা ও পরিবেশের কারণে মশার প্রজননস্থল তৈরি হলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে এর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এডিস মশার প্রজনন সম্পর্কে তারা বলেন, এটি সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, পানির ট্যাংক কিংবা বালতিতে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিদর্শন করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পাত্রগুলো পরিষ্কার ও উল্টো করে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, বিদ্যালয়ের মাঠ ও ড্রেনে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত খেয়াল করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পাত্র ও আবর্জনা সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি পানির ট্যাংক যথাযথভাবে ঢেকে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।
ডেঙ্গুর উপসর্গ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে বক্তারা বলেন, জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সভায় উত্তর হাড়োয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরাদ আলী, সহকারী শিক্ষক সাইদুল আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আজাহারুল ইসলাম রাজা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জীবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম শাহ্ ও ক্রীড়া সম্পাদক তানজিল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জীবন বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন করা হলে এর সুফল শুধু বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা তাদের পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। শিশুরা বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করে এবং কোথায় পানি জমে আছে তা সহজেই দেখতে পায়। তাদের সচেতন করে তুলতে পারলে তারাই পরিবারের সদস্যদের পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তুলতে আমরা এ কার্যক্রম শুরু করেছি। নীলফামারীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’