৬টি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের ঋণের ভারে ঝুঁকিতে ব্যাংকিং খাত
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
দেশের ব্যাংকিং খাত ছয়টি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর খেলাপি ঋণের কারণে উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গোপন নথি বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এর ফলে একাধিক ব্যাংকের সম্পদমান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ সিলেক্টেড লিড ব্যাংকস, ইম্প্যাক্টেড বাই সিক্স গ্রুপস’ শীর্ষক ওই নথিতে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী গ্রুপ, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন—এই ছয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণের প্রভাব বিভিন্ন ব্যাংকে ছড়িয়ে আছে।
নথি বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পাঁচটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে রয়েছে। আর সদ্য একীভূত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সব ছয় গ্রুপের ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত, যা এর ব্যালান্স শিটে বড় অঙ্কের খেলাপি সম্পদ থাকার ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নামও একাধিকবার এসেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকও এসব গোষ্ঠীর ঋণে উল্লেখযোগ্যভাবে জড়িত।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংককে ‘লিড ব্যাংক’ হিসেবে নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব ব্যাংক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালাবে।
লিড ব্যাংক বাছাইয়ে আন্তর্জাতিক গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে জটিল আলোচনা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়। তবে যেসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে বা প্রক্রিয়ায় রয়েছে, সেগুলোকে লিড ব্যাংক করা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে এই বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ আদায় সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তা নিয়ে একটি সমন্বিত কৌশলে ঋণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
