EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অতিরিক্ত ডিআইজি বাসায় অভিযান

ডোপ টেস্ট ছাড়াই সাজা দেওয়ার অভিযোগ, জামিনে ২ তরুণী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ এএম

ডোপ টেস্ট ছাড়াই সাজা দেওয়ার অভিযোগ, জামিনে ২ তরুণী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বাসায় অভিযানে গ্রেপ্তার ৮৫ জনকে ডোপ টেস্ট ছাড়াই সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত দুই তরুণী জামিন পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মহানগর দায়রা জজ আদালত দুই তরুণীর জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদা খানম।

তিনি বলেন, আসামিদের সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁদের আইনি অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালতে জামিন আবেদন করার পর তা মঞ্জুর হয়েছে।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার এক তরুণীর জামিন হয়েছে এবং আরকে তরুণীর কাগজপত্র ওই দিন সকালে কারাগারে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বুধবার বিকেলে মধ্যে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। 

আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ডোপ টেস্ট ছাড়াই তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার বিচারক শাহজাহান কবিরের আদালতে ‘স’ আদ্যক্ষরের এক তরুণীর জামিন আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, ৮৫ জনের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ মাদক থাকার তথ্য দেখিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। আসামিপক্ষ জব্দ তালিকার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

ওই তরুণীর স্বজনদের দাবি, তিনি পেশাদার ফায়ার স্পিনার। আগুন নিয়ে খেলা দেখান তিনি। ঘটনার রাতে আয়োজকদের আমন্ত্রণে সেখানে খেলা দেখাতে গিয়েছিলেন।

এদিকে একই আদালতে মঙ্গলবার আরও দুই পুরুষ আসামি জামিনের আবেদন করেন। তাঁদের আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গত ২০ অক্টোবর গভীর রাতে ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগ। এ সময় ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল গুলশান বিভাগের আওতাধীন হলেও অভিযান পরিচালনা করে ডিবির উত্তরা বিভাগ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে এক পিস ইয়াবা, ভারতীয় এক বোতল হুইস্কি, মদের বোতল ও কেরুর একটি খালি বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। কুশ নামের মাদক উদ্ধারের কথাও জানানো হয়।

তবে এসব আলামতের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ৮৫ জনের সবাই মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আসামিরা দোষ স্বীকার করায় তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

পরে পুরুষ আসামিদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নারী আসামিদের দেওয়া হয় ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা।

ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তিনি বলেন, পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার বিভিন্ন দিকের অসংগতি রয়েছে। এতসংখ্যক ব্যক্তিকে কোন ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তাঁর মতে, পুরো প্রক্রিয়া আইনগতভাবে সঠিক ও ন্যায়সংগত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তও প্রয়োজন। পুলিশের বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে অসংগতি থাকলে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের মুক্তি, স্বাধীন তদন্ত এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তাঁরা নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবন, গোপনীয়তা ও মর্যাদায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান।

তবে গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে এসব প্রশ্নের সমালোচনা করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযান পরিচালনা সংবিধানপরিপন্থী—এ কথা কোথায় লেখা আছে।

আইজিপি বলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তা করার অধিকার নয়। সবাইকে আইন, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।

সূত্র: টিবিএস

আরও পড়ুন