EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে: ব্রিটিশ হোম অফিস

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে: ব্রিটিশ হোম অফিস

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস)।

সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ব্রিটিশ হোম অফিস।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সংস্থাটির কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা গত ৭ থেকে ১৫ জুন ঢাকা সফর করেন। এ সময় তাঁরা মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল, আইনজীবী, গবেষক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল সরকারকে সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রচার, সভা-সমাবেশ ও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতপ্রকাশ এবং জনআলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনকে জানান, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বড় ধর্মীয় উৎসবের সময়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেন।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর অনেকই স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত। এসব ঘটনার পেছনে স্থানীয় প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় কাজ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সাবেক সরকারের সময় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন এবং অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক মামলাগুলোর পর্যালোচনা এখনও চলছে।

প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও সংস্কারের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মতপ্রকাশ ও জনআলোচনার সুযোগ বেড়েছে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে।

আরও পড়ুন