EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

এইচআরএসএস

নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, আহত ৬৪৭৩

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, আহত ৬৪৭৩

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে ১ হাজার ১৩টি সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ তথ্য জানায়। দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে এ হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনার মধ্যে ৯৩১টি, অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষের ঘটনা।

দলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ২ হাজার ৬৩২ জন আহত এবং ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে ২ হাজার ১৯০ জন আহত এবং ১১ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯৩টি সংঘর্ষে ৫৪৫ জন আহত এবং ৯ জন নিহত হয়েছেন।  

এ ছাড়া বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৪৭টি সংঘর্ষে ৩২০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও এনসিপির মধ্যে পাঁচটি সংঘর্ষে ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে তিনজন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১২৮টি সংঘর্ষে ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যান্য ছোট-বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৭৪টি সংঘর্ষে ৪০৫ জন আহত এবং ১১ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের আটজন এবং আওয়ামী লীগের ছয়জন রয়েছেন। এ ছাড়া একজন চরমপন্থী, একজন সাধারণ নারী এবং অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১১ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থিতা, রাজনৈতিক সমাবেশ, প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং দলীয় কার্যালয়, বাড়িঘর, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদাবাজিকেও রাজনৈতিক সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। 

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তদের অন্তত ৮৮টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এইচআরএসএস। এসব ঘটনায় অন্তত ১০০ জন আহত এবং বিএনপির ৩০ জন, আওয়ামী লীগের ১১ জন, জামায়াতের পাঁচজন ও অন্যান্য দলের ছয়জনসহ মোট ৫২ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫০ জনের বেশি রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে ৪০২টি ঘটনায় ২ হাজার ৬২৩ জন আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১২৩টি ঘটনায় ৯৪১ জন আহত এবং আটজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ২৩৪টি সংঘর্ষে ১ হাজার ৪৩৮ জন আহত এবং চারজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে তিনজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ১৬টি সংঘর্ষে ১৪১ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১৭টি ঘটনায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে ১০টি ঘটনায় ৩৮ জন আহত হয়েছেন। 

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে বিএনপির নয়জন, জামায়াতের দুজন, আওয়ামী লীগের একজন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা একজন রয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের ৫ হাজার ৬৪৪ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪ হাজার ৮২৭ জন, বিএনপির ৬০৯ জন, জামায়াতের ১৪৫ জন, এনসিপির ৪৩ জন এবং চরমপন্থী দলের ৩৭ জন রয়েছেন।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন