EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দুধে ভেজাল মেশালে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

পাবনায় মানহীন দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

দুধে ভেজাল মেশালে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দুধে ভেজাল মেশানোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি ও ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে ভেজাল দুধ প্রতিরোধে দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুখাদ্য হিসেবে দুধের কোনো বিকল্প নেই। অথচ সেই দুধে ভেজাল মিশিয়ে শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এমন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।’


জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী বলেন, দেশের দুগ্ধ উৎপাদন ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সম্প্রতি এ জেলার দুধ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় ভেজালের অভিযোগ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জেলার দুগ্ধশিল্পের দীর্ঘদিনের সুনামও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ভেজাল প্রতিরোধে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে খামারি, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই দুধে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানের দুধ ফেরত

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, দুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পাবনার বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সভার আগে তিনি পাবনার চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায় যথাক্রমে প্রাণ গ্রুপের একটি চিলিং সেন্টার এবং ফারুক চিলিং সেন্টার পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় প্রাণ গ্রুপের চিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, দুধের গুণগত মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই দিন পাঁচটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আনা দুধ ফেরত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ভেজাল দুধ প্রতিরোধে উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পাবনায় স্থায়ী পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি

সভায় সভাপতির বক্তব্যে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, পাবনা দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির কারণে জেলার হাজার হাজার সৎ ও পরিশ্রমী খামারির সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি জানান, ভেজাল দুধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দুধের গুণগত মান পরীক্ষা ও ভেজাল শনাক্ত করার জন্য পাবনায় একটি স্থায়ী পরীক্ষাগার স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, দুধ শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি দুধের পরিমাণ বাড়ানো, ঘনত্ব পরিবর্তন কিংবা সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এতে ক্ষতিকর ও অননুমোদিত উপাদান মেশাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের ভেজাল দুধ নিয়মিত গ্রহণের ফলে পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা এবং কিডনি ও যকৃতের ক্ষতিসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলেও মত দেন বক্তারা।

সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পাবনা জেলা সভাপতি, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, পাবনা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দুগ্ধ খামারি, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দুধে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন