EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রমজানে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

রমজানে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

আসন্ন রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

তিনি বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। তবে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু সংরক্ষণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

রবিবার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন করেন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা, গুদামভিত্তিক খাদ্য মজুত এবং সরবরাহের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে সময়ক্ষেপণ, পরিবহন ব্যয় ও খাদ্য অপচয় কমানো সম্ভব হবে। 

রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময়ে সরবরাহে সংকট হবে না বলে তিনি আশাবাদী। তবে বাড়তি চাহিদা, পরিবহন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ, আমদানি ও দেশীয়ভাবে খাদ্য সংগ্রহের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সরবরাহের পথে বাধা দ্রুত দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।

আমদানি কার্যক্রমের জটিলতা দূর করা এবং নির্ধারিত সময়ে খাদ্য দেশে পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য বিভাগের জনবল সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়েছে। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, গুদাম নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষিত খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখা জরুরি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত স্থাপনাগুলো আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পাশাপাশি গুদামভিত্তিক খাদ্য মজুতের সঠিক হিসাব, নিয়মিত পরিদর্শন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শন ও উদ্বোধনের সময় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন