নির্মাণে ইটের বদলে ব্লক ব্যবহারের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নির্মাণকাজে বায়ুদূষণ কমাতে ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে নির্মাণকাজের ধুলিদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্মাণস্থল ঘিরে রাখা, মাটি-বালিসহ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এবং পরিবহনের সময় যানবাহন আচ্ছাদিত রাখতে হবে। নির্মাণসামগ্রী ও বর্জ্যবাহী যানবাহনের চাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী রেখে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণস্থল ও আশপাশে প্রতিদিন অন্তত দুইবার পানি ছিটাতে হবে। ধুলার পরিমাণ বেশি হলে আরও ঘন ঘন পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নির্মাণবর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখা বা পোড়ানোর পরিবর্তে দ্রুত পরিবেশসম্মত উপায়ে সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্মাণ ও মেরামতকাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত বিধিবিধানও মেনে চলতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ধুলিদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পের নিয়মিত কাজের অংশ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, পানি ছিটানো ও বর্জ্য অপসারণ তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক ব্লকের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং এর ব্যবহার বাড়াতে নির্মাণব্যয় যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভায় নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও বিল্ডিং কোডে ব্লক ব্যবহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্লকের ওপর ভ্যাট, কর ও কাঁচামাল আমদানির শুল্ক যৌক্তিক করার প্রস্তাব উঠে আসে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রিহ্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

