EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নাফে মাছ ধরা সীমিত, নৌকায় বসছে এআইএস-জিপিএস

মো. মাহবুব আলম, ঢাকা

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

নাফে মাছ ধরা সীমিত, নৌকায় বসছে এআইএস-জিপিএস

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নাফ নদে মাছ ধরা সীমিত করার পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকাকে এআইএস ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মিয়ানমারে পণ্য পাচার ও আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সব মাছ ধরার নৌকার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলার মাছ ধরার নৌকা এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাচারের সঙ্গে জড়িত নৌকার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, এপিবিএন, জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি), নৌ পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মাছ ধরার নৌকা নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের কপি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিতে হবে। নিবন্ধিত নৌযানে এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ও জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) চালু রাখতে হবে।

বৈঠকে নোয়াখালী জেলা বিশেষ শাখা জানায়, ভাসানচর, হাতিয়া ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জেলেদের নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। ট্র্যাকিং কার্যক্রম শুরু এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাফ নদে মাছ ধরা সীমিত করতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের জেলে, তাঁদের সংগঠন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে নৌ পুলিশ জানায়, আরাকান আর্মির হাতে জেলে ও নৌকা আটকের একাধিক ঘটনার কারণে নাফে মাছ ধরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজার ডিএসবি জানায়, নাফ নদে মাছ ধরার সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসআরবি জানিয়েছে, নজরদারির মাধ্যমে মাছ ধরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের নাফ নদে মাছ ধরা বন্ধ রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এপিবিএন জানায়, বিট পুলিশিং ও সচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। আরআরআরসি জানায়, চিকিৎসা ও আদালতে হাজিরার মতো প্রয়োজন ছাড়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার অনুমতি নেই। এ জন্য ক্যাম্প-ইনচার্জের দেওয়া বহির্গমন পাস প্রয়োজন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রগামী মাছ ধরার নৌযান চট্টগ্রামের মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টে নিবন্ধনের পর মৎস্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স পায়। ছোট বা আর্টিসানাল নৌযানের ক্ষেত্রে অবৈধ, অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ ঠেকাতে সামুদ্রিক মৎস্য অফিসের পরিচালক অনুমতিপত্র দেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাফ নদে মাছ ধরার কাজে এক হাজার ১০টি নৌকা যুক্ত রয়েছে।

স্যাটেলাইটভিত্তিক এআইএস চালুর বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, নিবন্ধিত নৌযানে এআইএস ও জিপিএস বসানোর কাজ চলছে।

বৈঠকে কোস্ট গার্ড জানায়, জেলেদের একটি অংশ মাছ ধরার পাশাপাশি পণ্য ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় জলযান মোতায়েন করে ‘কোরাল আইল্যান্ড’ নামে অভিযানও চলছে।

এদিকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতার কারণে আয় হারানো জেলেদের পুনর্বাসনে তহবিল বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের তৈরি তালিকার ভিত্তিতে এ সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নাফ নদে মাছ ধরেন এমন জেলেদের তালিকা ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে ২০২৬ সালের ২৩ জুন আরআরআরসি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন