EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ

ঢাকার আবাসন সংকট বাড়ছে, প্রয়োজন অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম

ঢাকার আবাসন সংকট বাড়ছে, প্রয়োজন অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন

স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

টেকসই ও স্মার্ট নগরায়ণের পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি সাশ্রয়ী আবাসন। ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ নতুন আবাসন ঘাটতি যুক্ত হচ্ছে। এই ঘাটতি কমাতে প্রথমে পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত স্মার্ট সিটি কনক্লেভে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়েজ উল্লাহ বলেন, স্মার্ট সিটি ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে আবাসন একটি বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। ঢাকার প্রধান সংকটও আবাসন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ আবাসন ঘাটতি যুক্ত হচ্ছে। তাই আবাসনকে স্মার্ট করার আগে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই বাংলাদেশকে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। জাপান, সিউল ও সিঙ্গাপুরের দ্রুত নগর উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আবাসন খাতকে পরিবেশবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত মোট জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক খাতে ব্যবহৃত হয়। আবাসন খাতকে স্মার্ট ও গ্রিন করা গেলে জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের সাশ্রয় সম্ভব। 

আবাসন উন্নয়নে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে ফয়েজ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ দশমিক ৮৯৮ শতাংশ মর্টগেজ অর্থায়ন হয়। চীনে এই হার ৩০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৫০ শতাংশের বেশি। তাই টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করতে অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট আবাসন মানেই উন্নত প্রযুক্তি, সোলার রুফ বা নানা ধরনের গ্যাজেট নয়। এমন আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের প্রবাহ থাকবে, জ্বালানি ও পানির ব্যবহার কম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়ও কম থাকবে।

এ জন্য ভবনে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল, সঠিক দিকনির্দেশনা, সৌরবিদ্যুৎ, এনার্জি অডিট এবং পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।

ফয়েজ উল্লাহ বলেন, আবাসনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভবন পরিবেশবান্ধব হলেও সেটি যদি কর্মস্থল ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে দূরে হয়, তাহলে দীর্ঘ যাতায়াতের কারণে পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ বাড়বে। তাই স্মার্ট আবাসন পরিকল্পনায় পরিবহন ব্যয়, যাতায়াত এবং হাঁটার সুযোগও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, রাজউকসহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ভবন নকশায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ও সঠিক ভবন অভিমুখ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এগুলো বাধ্যতামূলক করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি), স্রেডাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল ও পরিকল্পনা দেশে আছে। মূল সমস্যা হলো সেগুলোর বাস্তবায়ন, বড় পরিসরে প্রয়োগ এবং অর্থায়ন।

তিনি বলেন, এসব বিষয় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ স্মার্ট ও টেকসই আবাসনের পথে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। 

আরও পড়ুন