EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন করা মানে এলোমেলো কাজ করা: গণপূর্তমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন করা মানে এলোমেলো কাজ করা: গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশের বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যান করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, কোথায় কী ধরনের স্থাপনা ও উন্নয়ন হবে, মাস্টারপ্ল্যানে তা নির্ধারণ করে জোনিং করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত স্মার্ট সিটি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি) ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রথমে মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে কাজ করা হচ্ছে। এরপর বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন করা মানে একটি লক্ষ্য ঠিক করে এলোমেলোভাবে কাজ করা।’ সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে উন্নয়ন করতে চায়। এ জন্য ইউডিডিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং এ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সঠিক পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত তথ্যের প্রয়োজন উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, সর্বশেষ জনশুমারি অনেক আগের। পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে নতুন ও যথাযথ একটি শুমারি করা প্রয়োজন।

রাজধানীর পরিকল্পনাবহির্ভূত ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অনেক এলাকায় ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এর বাইরের বিভিন্ন এলাকায় নকশা ছাড়াই অনেক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

গুলশান, বনানী, বারিধারা ও হাতিরঝিলের পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ বাড়িঘর রয়েছে। এর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল নেই। অনেক ভবনে বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ব্যবহারের ব্যবস্থাও নেই। 

তিনি বলেন, এসব এলাকার পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সোসাইটি ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। গুলশান ও বারিধারার লেকের পানি ঠিক করতে না পারলে সারা দেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা কঠিন।

মন্ত্রী জানান, গত সাত মাসে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালের জন্য ছয়টি নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। এর আগে আরও চারটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়া নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনই নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের কাজ করে। এতে যথাযথ নজরদারি থাকে না। ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও নকশা ছাড়া বা অনুমোদনের শর্ত ভেঙে ভবন নির্মাণের ঘটনা রয়েছে। এসব বিষয় একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ বা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঠেকাতে নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি আগামী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে। বিধিমালা পাস হলে ভবন নির্মাণের তদারকি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ সুবিধার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, উন্নত অনেক দেশে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের সুবিধা ছাড়া সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে বেসরকারি আবাসন খাতকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। নতুন নীতিমালায় আগের কাজের মান ও বাস্তবায়ন বিবেচনা করে নতুন আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭৩টি শহরের মধ্যে ১৭১তম। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরকে বাসযোগ্য করতে যথাযথ পরিকল্পনা ও সব খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে কঠিন হলেও সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন