লিবিয়ায় আটক বাবাকে উদ্ধারের দাবি ছেলের
ডেইলি সান রিপোর্ট, মাদারীপুর
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
লিবিয়ায় প্রায় এক বছর ধরে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে আটক বাবাকে জীবিত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার ছেলে মুন্না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
মুন্না অভিযোগ করেন, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে পূর্বপরিচিত শিপন খান তার বাবাকে লিবিয়ায় নিয়ে যান। ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে ৬ লাখ ও পরে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে তার বাবাকে আটকে রেখে খাবার না দেওয়া এবং বিভিন্ন অজুহাতে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুন্নার দাবি, বাবাকে উদ্ধারের জন্য পরিবারকে আরও ১২ লাখ ও ৮ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। পরে তার বাবাকে ‘কালাবুস’ নামের একটি বাহিনীর কাছে আটক রাখা হয়েছে বলে জানতে পারেন তারা। তাকে ছাড়াতে আরও ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মাদারীপুর আদালতের মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে পিটিশন নং-৩৪৯/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান মুন্না। মামলার পর থেকে মামলা তুলে নিতে চাপ, আপসের প্রস্তাব ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খিলগাঁও থানা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় কথিত দালাল চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মুন্না আরও দাবি করেন, তার বাবার মতো ৪০ জনের বেশি বাংলাদেশি ওই চক্রের হাতে লিবিয়ায় আটক রয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক লিবিয়ায় নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করে এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অমিত হাসান কবির, লিটু মুন্সী, শিপন খান, তানিয়া মুন্সী, মোমিন ও জাহিদ নামে ছয়জনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান মুন্না।
তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা নয়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলনে তার ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—লিবিয়া থেকে বাবাকে দ্রুত উদ্ধার, মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টদের তদন্তের আওতায় আনা, নিহত বাংলাদেশিদের মৃত্যুর কারণ তদন্ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং তার পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মুন্না বলেন, আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমি শুধু আমার বাবাকে জীবিত ফিরে পেতে চাই। একই সঙ্গে লিবিয়ায় আটক অন্য বাংলাদেশিদের উদ্ধারে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
-6ac5795a1a11c.png)