সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে মহাপরিকল্পনা, পাঁচ বছরে লক্ষ্য ৫ হাজার মেগাওয়াট
সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখছে সরকার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিবছর বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখছে সরকার।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং গ্রিডবহির্ভূত ব্যবস্থার সক্ষমতা ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট। আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ করা গেলে অতিরিক্ত জমি ব্যবহার ছাড়াই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনার ছাদ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদেরও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে যুক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা, দ্রুত অনুমোদন, সহজ গ্রিড সংযোগ ও অর্থায়নের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে। তবে সৌরবিদ্যুৎ দিনের আলো ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও গ্রিড ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জরুরি।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বলেন, বড় পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করতে আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনা, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এবং প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। দিনের অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে সন্ধ্যা ও রাতে ব্যবহার করা গেলে এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পতিত ও অনুপযোগী জমি, বিভিন্ন স্থাপনার ছাদ এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জলাশয়ভিত্তিক বা ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও খামারসহ গ্রামীণ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে।
-6ac33429e7be7.jpg)