অবিবাহিত ৩ তরুণীকে নেপাল যেতে বাধা, হাইকোর্টের রুল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও অবিবাহিত হওয়ায় তিন তরুণীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পুলিশের এডিশনাল আইজিপিকে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন তরুণীর করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।
আদালত একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী বিদেশযাত্রার সময় আবেদনকারীদের যেন বাধা দেওয়া না হয়। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।
রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ার আদেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি, এডিশনাল আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়, তিন আবেদনকারীর বিদেশযাত্রার ওপর কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত বাধা ছিল না। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাদের বিমানবন্দর থেকে নেপাল যেতে দেওয়া হয়নি।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না কিংবা তার বাবা-মা বা অভিভাবক সঙ্গে আছেন কি না—এসব বিষয় বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।
রিটে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমতা ও লিঙ্গ বৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে থাকা চলাফেরার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা বিবেচনার দাবি রাখে।
