EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব, আমলে নেবে সরকার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব, আমলে নেবে সরকার
অ অ

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর অপপ্রয়োগ থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে গণমাধ্যমের অংশীজনেরা। সরকার এ প্রস্তাবকে ‘উপযুক্ত ও যুক্তিসংগত’ হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনকে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এ আইনের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে আদালতের পূর্বানুমতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়া গেলে তা প্রস্তাবিত বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে মামলা বা আপিল নিষ্পত্তিতে অনির্দিষ্টকাল কাউকে ঝুলিয়ে না রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গণমাধ্যমের সুরক্ষায় আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে সভায় প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় ‘সেভিং ক্লজ’ বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খসড়াটি চূড়ান্ত করার আগে সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাইবার স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মতামত পাওয়া গেছে। এসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পর্যালোচনার পর খসড়াটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। সংসদে উত্থাপনের পরও তাড়াহুড়ো করে বিলটি পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভার সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়া সমন্বয় করবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

আরও পড়ুন