স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
কানাডা-সিঙ্গাপুর নয়, বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে চাই
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো ঢাকা গড়ার কথা বলতে চান না স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মানুষের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে চাই।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাসযোগ্য ঢাকা চান। এমন ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা থাকবে। জলাবদ্ধতা থাকবে না। খালগুলো পরিষ্কার থাকবে। মানুষ হাঁটার জায়গা পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার ২৯টি ও ২৬টি খাল পরিষ্কার ও সচল করা হবে। খালের পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। বৃক্ষরোপণ করা হবে। মানুষের হাঁটার ব্যবস্থাও করা হবে।
একই সঙ্গে ঢাকার চারপাশের পাঁচটি নদী আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীগুলো নৌযান চলাচলের উপযোগী করা হবে।
চারটি খালের কাজ পরিদর্শনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজের অগ্রগতি দেখতে এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিতে এই পরিদর্শন। শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই খালের কাজ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে। খালগুলো মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হবে।
খালের ওপর থাকা বাঁশের সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্পদিনের মধ্যে সেটি আরসিসি সেতুতে রূপান্তর করা হবে। তবে অবৈধভাবে নির্মিত সেতু আরসিসি করা হবে না।
তিনি বলেন, যারা খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন, এ বছর তাদের দখল উচ্ছেদ করা হবে।
খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, আগের সরকারের সময়ে এ বিষয়ে যে কমিটি করা হয়েছিল, তার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি। অগ্রগতি ছিল শূন্য শতাংশ।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এলাকায় নতুন করে দুটি কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গা লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব সম্পত্তি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ। শুষ্ক মৌসুমে জোরেশোরে কাজ করে এই অগ্রগতি আরও বাড়ানো হবে।
ভবিষ্যতে খাল আবার দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন সারা বছর খালগুলো তদারকি ও পরিষ্কার করবে। জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব কাজ করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে নগরবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা মানুষের ভোট পাবেন কি না, তা বিবেচনা না করে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করছেন।
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, জনগণই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। কোথাও সরকারের ব্যর্থতা থাকলে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাও মোটামুটি সমাধানের দিকে রয়েছে বলে জানান তিনি। এ জন্য সরকারকে আরও কিছু সময় দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


