EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কংক্রিটের ঢাকায় পাখিদের ঠিকানা ‘আকাশ নীড়’

৫৮ প্রজাতির ৪১৮টি গাছ দিয়ে সাজানো ছাদবাগান, পাখির নিরাপদ আশ্রয় গড়ল ঢাকা জেলা প্রশাসন

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

কংক্রিটের ঢাকায় পাখিদের ঠিকানা ‘আকাশ নীড়’

ঢাকার একটি ছাদে পাখিদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘আকাশ নীড়’ ছাদবাগান।

অ অ

কংক্রিটের নগরী ঢাকায় বাড়ছে ভবনের উচ্চতা, কমছে সবুজের পরিসর ও পাখির নিরাপদ আশ্রয়। এমন বাস্তবতায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের একটি ছাদে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক ঠিকানা—‘আকাশ নীড়’। ‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানকে সামনে রেখে গড়ে তোলা এই ছাদবাগানে একসঙ্গে মিলেছে সবুজ, ফুল, ফল, জলাধার, পাখির খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘আকাশ নীড়’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ইট-পাথরের ব্যস্ত এই নগরীতে সবুজের জন্য একটু জায়গা, নির্মল বাতাসের জন্য একটু অবকাশ এবং পাখির কিচিরমিচির শোনার মতো একটি শান্ত পরিবেশ দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। তবে উদ্যোগ, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কংক্রিটের শহরের বুকেও সবুজের পরশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আকাশ নীড়’ শুধু একটি ছাদবাগান নয়; এটি নগরজীবনে সবুজ, জীববৈচিত্র্য ও পাখির নিরাপদ আবাস ফিরিয়ে আনার একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ প্রয়াস। এখানে এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে পাখি শুধু আসবে না, নিরাপদে আশ্রয় নেবে, খাবার পাবে এবং নির্বিঘ্নে বিচরণ করতে পারবে।

জেলা প্রশাসক আরও  বলেন, ‘আকাশ নীড়ে’ রয়েছে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ। এর মধ্যে পাখিদের খাদ্যের উৎস ও পরাগায়নের জন্য রোপণ করা হয়েছে ৩০ প্রজাতির ২২৯টি ফুলের গাছ। রয়েছে ১৪ প্রজাতির ৪১টি ফলের গাছ, যা পাখিদের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস তৈরি করবে। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে রাখা হয়েছে ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল গাছও।

পাখিদের জন্য রয়েছে পদ্ম ও শাপলায় সাজানো জলাধার এবং বার্ড বাথ। পাশাপাশি তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড়, পাখির ঘর এবং বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছের পরিবেশ। স্থানীয় খরগোশ, বানর ও কাঠবিড়ালির জন্যও রাখা হয়েছে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা।

মানুষের জন্যও জায়গাটিকে রাখা হয়েছে স্বস্তির একটি পরিসর হিসেবে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এখানে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক বিশ্রামস্থল, ছাতা ও কাঠের চেয়ার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নগরায়ণের ফলে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সবুজ এলাকা ও জীববৈচিত্র্যের পরিসর। এ বাস্তবতায় ছাদবাগান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, বরং নগরের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর একটি উদ্যোগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি নিজেদের ভবনের ছাদে সবুজায়ন করে এবং পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে নগরের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ‘আকাশ নীড়’কে একটি ছাদবাগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ধারণা হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। একটি ভবনের ছাদ থেকে শুরু হয়ে এই ধারণা যদি ঢাকার অসংখ্য ছাদে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে কংক্রিটের নগরীতেও গড়ে উঠতে পারে সবুজের নতুন বলয়।

আরও পড়ুন