নিখোঁজ সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় পরিবার, পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার খিলক্ষেতের ভাড়া বাসা থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বের হওয়ার পর আর ফেরেনি কুর্মিটোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাবিবুল্লাহ নাঈম। তাকে উদ্ধারে থানা, পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
নাঈমের পরিবারের দাবি, তার সঙ্গে থাকা মোবাইল নম্বর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন করে অর্থ দাবি করেছে। এতে শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ দাবিকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে যে নম্বর থেকে ফোন এসেছে, সেটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
ছয় মাস ধরে নিখোঁজ রিয়াদ
ঢাকার দক্ষিণখান থেকে গত ২৮ মার্চ নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র আরাফাত হোসেন রিয়াদ। পরিবারের দাবি, ছয় মাস ধরে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা।
রিয়াদের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, দিনাজপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রামেও গিয়েছি ছেলের জন্য। সে কী খাচ্ছে, কোথায় থাকছে—এসব ভাবলে কষ্ট হয়।
তার অভিযোগ, এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত করা সম্ভব হলেও পুলিশ এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেনি। সম্প্রতি দক্ষিণখান থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে তিনি রিয়াদের নিখোঁজের বিষয়টি জানেন না বলেও জানান।
শিশু নিখোঁজ নিয়ে উদ্বেগ
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন।
একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে, এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯৭০ জন। সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা মোট নিখোঁজের ১৩ শতাংশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুন এলার্ট জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়ার পর পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ কী বলছে
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর অনেক শিশু নিখোঁজের জিডি হয় এবং ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শিশু উদ্ধার হয়। পুলিশের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিখোঁজ শিশুদের ৯০ শতাংশের বেশি উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মিডিয়া অ্যান্ড পিআর এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জিডি গ্রহণ করা না হলেও অনুসন্ধান তৎপরতা শুরু হয়। অনেক শিশু পারিবারিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত কারণে নিখোঁজ হয় এবং পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়।
তিনি জানান, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে ভবিষ্যতে আন্তঃবাহিনীর সমন্বয়ে একটি কমান্ড সেন্টার বা কন্ট্রোল সেন্টার তৈরির উদ্যোগ ও পরিকল্পনা রয়েছে।
